দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্গিনী দেখতে সুন্দরী। আর তাঁর সৌন্দর্য দেখে যাতে অন্য পুরুষ মজে না যান সে জন্য এক অদ্ভুত কাণ্ড করলেন এক ব্যক্তি। প্রেমিকার সামনের দাঁত দুটো জোর করে তোলালেন তিনি।
আমেদাবাদের বছর ৫৫-র গীতাবেন পরিচারিকার কাজ করতেন। ১৫ বছর আগে পেশায় অটো চালক এক ব্যক্তির সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দুজনেরই সংসার ছিল। কিন্তু ভালোবাসার টানে দুজনেই নিজেদের সংসার ছেড়ে চলে আসেন। একসঙ্গে থাকা শুরু করেন তাঁরা।
গত বুধবার আমেদাবাদের দুধেশ্বর এলাকায় এক চলন্ত অটো থেকে ঝাঁপ দেন গীতাবেন। পথচলতি এক যাত্রী মহিলা সুরক্ষা সংস্থার হেল্পলাইনে ফোন করেন। এলাকার কাউন্সিলারও এসে পৌঁছান সেখানে। এরপরেই প্রকাশ্যে আসে গোটা ঘটনা।
মহিলা সুরক্ষা দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, গীতাবেন তাঁদেরকে বলেন একসঙ্গে থাকার জন্য নিজেদের বাড়িঘর এবং সন্তানদেরও ছেড়ে আসেন তাঁরা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকেই শুরু হয় অশান্তি। প্রথমে কোপ পড়ে গীতাবেনের দাঁতের উপর। তবে এতেই ক্ষান্ত হননি ওই ব্যক্তি। পরিচারিকা হিসেবে গীতাবেনের কাজ করাও বন্ধ হয়ে যায়।
গীতাবেন জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকলেও তাঁকে সন্দেহ করতেন তাঁর সঙ্গী। ভাবতেন অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে হয়তো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর। এরপর বাড়ির সব জানলা-দরজায় প্লাস্টিকের শিট লাগিয়ে দেন ওই ব্যক্তি। যাতে বাইরে থেকে কেউ গীতাবেনকে দেখতে না পান। এরপর সম্প্রতি শুরু হয়েছিল আরেক উৎপাত। অটো নিয়ে বেরোলে ওই ব্যক্তিকে সঙ্গ দিতে সারাদিন অটোর সামনে বসে যেতে হতো গীতাবেনকে। অবশেষে সহ্যের বাঁধ ভাঙে মহিলার। এই নরক যন্ত্রণা থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য বুধবার অটো থেকে ঝাঁপ দেন তিনি।
কিন্তু এত কিছুর পরেও ভালোবাসা কমেনি। কাউন্সিলারের সামনে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিকে যাতে গ্রেফতার না করা হয়। কাউন্সিলার ও মহিলা সুরক্ষা দফতরের কর্তারা কথা বলে ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি মুচলেকা দিয়ে জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতে গীতাবেনকে তিনি কোনও কিছু নিয়ে জোর করবেন না।