দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাহিনিটা এক চিরন্তন দিদি আর ভাইয়ের। যেখানে শুধু দিদি না, যমের দুয়ারে কাঁটা ফেলেছেন ভাইও। আগলে রেখেছেন দিদিকে। আর দিদি তো দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আছেনই ভাইকে। সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় পেজ ‘হিউম্যানস অফ বম্বে’–তে এই ভাই–বোনের কথা কয়েকদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে, এবং ভাইরাল হয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে। খুশির অশ্রু চোখ ভিজিয়েছে তাঁদের।
তখন সবে ছ’বছর বয়স অরিন্দমের। পরিবারে সবার ছোট। তাও কেন সবাই দিদিরই খেয়াল বেশি রাখে! দিদিকে ঘিরেই সকলের কত রকম আদর। রাগ হতো, সঙ্গে হিংসাও। একদিন অরিন্দমের মা বোঝান, দিদির একটা সমস্যা আছে, যার নাম 'ডাউন সিনড্রোম'। তাই দিদির আর পাঁচ জনের চেয়ে একটু বেশি যত্ন, আদর, খেয়াল দরকার হয়। কাজেই ওর জন্য আলাদা করে বেশি সময় রাখা দরকার। তার পর থেকেই দিদির ব্যাপারে মানসিকতা বদলে গিয়েছিল ভাই অরিন্দমের।
একটু বড় হয়ে যখন স্কুলে যাওয়া শুরু হল, মাস্টারমশাইদের কাছে বকুনি খেলেই অরিন্দম সবার আগে ছুটে আসত দিদির কাছেই। জড়িয়ে ধরে বলত, ‘‘দিদি, প্লিজ বাঁচা আমায়।’’ আবার যখন দিদির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত আত্মীয় স্বজনেরা, মামা, মাসির বাড়িতে বেড়াতে গেলে যখন দিদির হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হতো পুতুল, বা পাড়ায় খেলতে গেলে ধাক্কা দিয়ে দিদিকে সরিয়ে দেওয়া হতো, তখন রুখে দাঁড়াত অরিন্দম। ডাউন সিনড্রোম থাকলেও, দিদিরও যে একটা ‘স্বাভাবিক’ ছেলেবেলা প্রাপ্য, সেটা তেমন করে না বুঝেও, ছোট থেকেই লড়ে যেত অরিন্দম।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন জানিয়েছেন, দিদিও কিন্তু ছোট থেকেই তাঁদের চমকে দিয়েছে। মন দিয়ে পড়াশোনা করেছে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছে। এবং ১৮ বছর বয়সেই দিদি ডাউন সিনড্রোম বাচ্চাদের পড়াতেও শুরু করেছে। সেই থেকেই অল্প অল্প উপার্জন শুরু করেছিল দিদি। চমকে দিত, নিজের রোজগারের টাকায় বাড়ির সবার জন্য খাবার কিনে এনে। দিদি কখনও বুঝতে দেয়নি, ডাউন সিনড্রোম ওর জন্যে কোনও প্রতিবন্ধকতা, আজ বলছেন অরিন্দম।
কাজের জন্য দূরে থাকায় গত তিন বছর দেখা হয়নি দিদির সঙ্গে। ফোন করেই ভাইফোঁটা নিতেন অরিন্দম। দিদি কাঁদতে কাঁদতেই মন্ত্র উচ্চারণ করতেন। অরিন্দম ফোনে বলতেন, ‘‘আমার তরফ থেকে দুটো মিষ্টি বেশি খেয়ে নে দিদি। মনে কর আমি খাইয়ে দিচ্ছি।’’ আর এই বছর, মুখোমুখি হয়ে অবুঝ বাচ্চাদের মতো বলেছেন, ‘‘আমি ছোট না তোর থেকে! আমি আগে মিষ্টি খাব। খাইয়ে দে!’’
ভাই–বোনের এই গল্পে বুকে মোচড় দিয়েছে অনেকেরই। পোস্টটি অসংখ্য শুভেচ্ছা পেয়েছে। একজন লিখেছেন, ‘‘আমার দাদারও ডাউন সিনড্রোম। কিন্তু এই পৃথিবীতে আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে আমার দাদা। তোমাদের কাহিনি পুরো আমাদের মতো।’’ আর এক জন লিখেছেন, ‘‘আমার সন্তানের বয়স ৪ বছর। তারও ডাউন সিনড্রোম। মা হিসেবে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু তোমার দিদির কাহিনি পড়ে সাহস পাচ্ছি মনে। আমিও সন্তানকে এভাবেই মানুষ করতে চাই।’’