শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন আপাতত আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এই চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে রাজ্যকে। ততদিন শিক্ষাকর্মীরা কোনও ভাতা পাবেন না।

কুণাল ঘোষ
শেষ আপডেট: 20 June 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসিতে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে (SSC Recruitment Scam) চাকরি হারানো গ্রুপ সি (Group C) ও গ্রুপ ডি (Group D) প্রার্থীদের যে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন আপাতত আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এই চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে রাজ্যকে। ততদিন শিক্ষাকর্মীরা কোনও ভাতা পাবেন না।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ভাতার উপর কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) এই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ নিয়ে বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৬ হাজার চাকরি গিয়েছিল। একদল বলেছিলেন সকলের চাকরি খেতে হবে। আর একদল পৈশাচিক আনন্দ পেয়েছিলেন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী পাশে দাঁড়িয়েছেন যাঁদের জীবনের উপর যন্ত্রণা নেমে এসেছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান দিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে এবং তার পাশাপাশি গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি যাঁরা আচমকা চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসেছিলেন, তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তীকালীন একটা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেটা নিয়েও আপত্তি করা হল এবং আজ তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।"
তিনি আরও বলেন, "মানবিক মুখ্যমন্ত্রী, যিনি সুপ্রিম কোর্টে সদ্য চাকরিহারা তাঁদের সংসার যাতে চলে, সেই কথা ভেবে অন্তর্বর্তীকালীন ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেটা আটকাতেও কারা কোর্টে গেল, তাদের দেখুন, চিহ্নিত করুন। কোর্ট নিয়ে তো কিছু বলা যাবে না। আমরা কোর্টকে শ্রদ্ধা করি, বিচারপতিদের সম্মান করি। কিন্তু দেখুন কারা কোর্টে যায়, আর কী অর্ডার নিয়ে বেরোয়। এবার আইনে কী করবে রাজ্য সরকার সেটা রাজ্যই দেখবে। কিন্তু আমরা বলব, বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও। পথে কে পাশে থাকে, কারা চাকরি খাব, অন্তর্বর্তীকালীন ভাতা পেতে দেব না, পাশে থাকব না, লোকের চোখের জল নিয়ে রাজনীতি করব, তাঁদের চিনে রাখুন।"
অন্যদিকে হাইকোর্টের আজকের রায় নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, "রাজ্য সরকার যখন এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেই মুহূর্তেই এই ভাতা দেওয়ার বিষয়টা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছিল। স্বাভাবিকভাবেই যাঁরা এই ভাতা থেকে বঞ্চিত, চাকরিতে অংশগ্রহণ করেও চাকরি পাননি, তাঁদের মনোভাবও কিন্তু সেই সময় প্রতিফলিত হয় এবং বিচারব্যবস্থার কাছে জানান। একদিকে যেমন সহানুভূতি, মানবিকতার বিষয় রয়েছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার যেভাবে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে, সেই জায়গা থেকে এই রায় রাজ্য সরক্রের গালে আরও একটি চপেটাঘাত বলেই মনে করি।"