মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সেই বিষয়েই স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)। তিনি জানান, স্পিকারের তলব করা রিপোর্ট জমা দিতে দেরি হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা
শেষ আপডেট: 7 October 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খগেন মুর্মুর উপর হামলার (Khagen Murmu) ঘটনায় রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইলেন লোকসভার (Lok Sabha) স্পিকার ওম বিড়লা (Speaker Om Birla)। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সেই বিষয়েই স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)। তিনি জানান, স্পিকারের তলব করা রিপোর্ট জমা দিতে দেরি হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন রিজিজু। সেখান থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে সড়কপথে মিরিকের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখাই তাঁর সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি শুধু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনই করবেন না, মৃতদের পরিবারের সদস্য এবং দুর্গত মানুষদের সঙ্গেও দেখা করবেন।
দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, মঙ্গলবার দিনভর কিরেন রিজিজুর একাধিক কর্মসূচি নির্ধারিত আছে। রাতে তিনি থাকবেন শিলিগুড়িতে এবং বুধবার বিজনবাড়ির পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাবেন।
উল্লেখ্য, সোমবার জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার বন্যা-বিধ্বস্ত (North Bengal Flood) এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সেই সময় ইটের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হন খগেন মুর্মু। শঙ্কর ঘোষকেও ধাক্কা ও মারধরের চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রিজিজু বলেন, “লোকসভার স্পিকার রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট তলব করেছেন। যদি রাজ্য রিপোর্ট দিতে দেরি করে, তাহলে স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাব অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “এটা শুধুমাত্র কোনও সাংসদ বা বিধায়কের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটা প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিষয়।” রিজিজু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে বাংলায় ও ইংরেজিতে খগেন ও শঙ্করের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন। সেই পোস্টের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক্সে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করতে নেমেছেন।”
ঘটনাচক্রে, মঙ্গলবারই মিরিক ও আশপাশের বন্যা-বিধ্বস্ত অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে ওই এলাকায় যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজুও। ফলে দুর্যোগের মাঝেই রাজনৈতিক উত্তাপও তুঙ্গে উঠেছে উত্তরবঙ্গে।