পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর অভিযুক্তরা কীভাবে ঘটনা ঘটিয়েছিলেন? তারপর কোথায়, কীভাবে লুকিয়ে ছিলেন, কতদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন? সব তথ্য চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 June 2025 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত এপ্রিল মাসে ওয়াকফ আইনের (Waqf Protest) প্রতিবাদে রণক্ষেত্র চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। অশান্তির বলি হন জাফরাবাদের বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাস। সেই ঘটনায় চার্জশিট (Chargesheet) জমা দিল পুলিশ। সেখানে ১৩ অভিযুক্তই সামশেরগঞ্জের।
মুর্শিদাবাদের অশান্তির ঘটনায় বহিরাগত তত্ত্ব সামনে এসেছিল। খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দাবি করেছিলেন, বাইরের লোক এসে এলাকায় ঝামেলা করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও এমনই বলেছিল। কিন্তু পুলিশের চার্জশিট সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ১৩ জনের নাম উঠে এসেছে তারা সকলেই সামশেরগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা। কেউই বাইরের নন, এমন কারও নামও নেই।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর অভিযুক্তরা কীভাবে ঘটনা ঘটিয়েছিলেন? তারপর কোথায়, কীভাবে লুকিয়ে ছিলেন, কতদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন? সব তথ্য চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করেই একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল জাফরাবাদে পিতা-পুত্র খুনে অন্যতম অভিযুক্ত জিয়াউল শেখের দুই পুত্রকে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত একটি কমিটি। তাঁদের দাবি ছিল, পুলিশ সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কিছুই করেনি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রেজিস্ট্রার যোগিন্দর সিং, রাজ্য জুডিশিয়ার সার্ভিসেসের সচিব অর্ণব ঘোষাল ও রাজ্য জুডিশিয়াল সার্ভিসেসের রেজিস্ট্রার সৌগত চক্রবর্তীকে নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট গড়েছিল এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। তাঁরাই জানায়, একাধিক তৃণমূল নেতা (TMC Leaders) হিংসার প্ররোচনা দিয়েছিলেন। আর হিংসা হচ্ছে দেখেও পুলিশ (WBP) নিষ্ক্রিয় ছিল। ধুলিয়ান পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মেহেবুব আলমকে মূল 'দোষী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এই রিপোর্টে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কাটাছেঁড়া করা হয়েছে এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টে। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় যখন হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, যখন দোকান, বাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে, সেই সময় পুলিশ দর্শকের ভূমিকায় ছিল। হিংসা আটকাতে কোনও রকম চেষ্টাই করেনি। এখন বহিরাগত তত্ত্বও 'খারিজ' হয়ে গেল।