নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে বিক্রেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল - ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পুরনো দামে থাকা সমস্ত মজুত বিক্রি করতে হবে। ১ ডিসেম্বর থেকে দোকানে থাকা পুরনো স্টক হোক বা নতুন স্টক, সব ক্ষেত্রেই নতুন দামেই বিক্রি করতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে মদের উপর অতিরিক্ত শুল্ক (More GST) কার্যকর হতেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ল বাজারে। নতুন নীতি চালু হওয়ার পর বিয়ার বাদে প্রায় সব ধরনের দেশি ও বিদেশি মদের (Liquor Price) দাম বেড়েছে। আর সেই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় গত এক মাসে রাজ্যে (West Bengal) মদের বিক্রি কমেছে ২০ শতাংশেরও বেশি - এমনটাই জানাচ্ছে আবগারি দফতরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট।
নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, ৭৫০ মিলিলিটারের বিদেশি মদের বোতলে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ছোট, ১৮০ মিলিলিটারের বোতলে বাড়তি দিতে হচ্ছে প্রায় ১০ টাকা। দেশি মদের ক্ষেত্রেও প্রতিটি প্যাকেটে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত প্রায় ১০ টাকা। ফলে নিত্যদিনের ক্রেতা থেকে শুরু করে উৎসবের মরশুমে যাঁরা মদ কেনেন, সকলেরই খরচ বেড়েছে এক ধাক্কায়।
নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে বিক্রেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল - ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পুরনো দামে থাকা সমস্ত মজুত বিক্রি করতে হবে। ১ ডিসেম্বর থেকে দোকানে থাকা পুরনো স্টক হোক বা নতুন স্টক, সব ক্ষেত্রেই নতুন দামেই বিক্রি করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা থেকে শুরু করে লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত কড়া শাস্তির কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই নির্দেশিকার জেরেই নভেম্বর মাসে মদের বিক্রি ছিল তুলনামূলক ভাবে বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, ওই মাসে রাজ্যে মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৫৭ বোতল মদ বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে সেই সংখ্যা অনেকটাই নেমে আসে।
অথচ প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসকে মদের বিক্রির ক্ষেত্রে ‘পিক সিজ়ন’ বলেই ধরা হয়। বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে কলকাতা থেকে শুরু করে দার্জিলিং, দীঘা, মন্দারমণি - সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মদের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। শুধু পর্যটন এলাকা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন মফস্সল শহরেও এই সময় বিক্রির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু চলতি বছরে সেই চেনা ছবিটাই বদলে গেছে।
আবগারি দফতরের একাংশের মতে, নভেম্বরের শেষ দিকে পুরনো দামে মদ কেনার হিড়িকই ডিসেম্বরের বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে পুরনো দামে বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ায়, অনেক ক্রেতাই আগেভাগে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মদ কিনে রেখেছিলেন। ফলে ডিসেম্বর মাসে বাজারে চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল।
তবে শুধু আগাম কেনাকাটাই নয়, দাম বৃদ্ধিও যে বড় কারণ, তা মানছেন বিক্রেতারাও। তাঁদের বক্তব্য, হঠাৎ করে একাধিক পণ্যের দামে বৃদ্ধি হওয়ায় অনেক নিয়মিত ক্রেতাই আপাতত হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। উৎসবের মরশুমেও সেই প্রভাব স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, নতুন শুল্ক চালুর পর পশ্চিমবঙ্গের মদের বাজারে যে বড়সড় বদল এসেছে, তা সংখ্যাই বলছে। আগামী মাসগুলিতে বিক্রি আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আবগারি দফতর এবং ব্যবসায়ীরা।