চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেছে, নিয়োগ নীতির ক্ষেত্রে কোনও স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত নেই। পাশাপাশি স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজের তালিকার কথা বলা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 July 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিএলও ডিউটি (BLO Duty) থেকে রাজ্যের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) চিঠি দিল শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী বিএলও ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চ। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি (STEA)-র উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবারই কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) একটি মামলা দায়ের হয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রাথমিক শিক্ষকদের (Primary Teachers) বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেই এই মামলা। আর মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী বিএলও ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চ জানাল, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীবৃন্দকে এই ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেছে, নিয়োগ নীতির ক্ষেত্রে কোনও স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত নেই। পাশাপাশি স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজের তালিকার কথা বলা হয়েছে। এই বিপুল দায়িত্ব শিক্ষকদের পালন করতে হবে ছুটির দিনে তথা নন ওয়র্কিং আওয়ারে। তাঁরা জানিয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী এই অতিরিক্ত সময় শ্রমের কারণে যে ক্ষতিপূরণ ছুটি (Compensatory Leave) কর্মচারীর প্রাপ্য হয় সে বিষয়ের কোনও উল্লেখ নিযুক্তিপত্রে বা কোনও নির্দেশিকায়। সেক্ষেত্রে এই নিয়োগ অনুসারে একজন শিক্ষক সপ্তাহে সাতদিনই এবং সমস্ত ছুটির দিনে কাজ করতে বাধ্য থাকবেন যা অমানবিক।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই সংগঠন চায়, শিক্ষা বহির্ভূত এতবড় গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব যাতে শিক্ষকদের ওপর চাপানো না হয়। বরং এই দীর্ঘমেয়াদি, জটিল ও দায়িত্বপূর্ণ কাজে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব স্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ করুক।
তাঁদের যুক্তি, এমনিতেই পঠনপাঠন ছাড়া বিদ্যালয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের স্কুল চলাকালীন এবং স্কুলটাইমের বাইরেও নিযুক্ত থাকতে হয়। যেমন : সারা বছরের বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা (শিক্ষাশ্রী, মেধাশ্রী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী, সবুজসাথী, বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রভৃতি), খাতা মূল্যায়ন, হলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড নির্মাণ, পর্বভিত্তিক রেজাল্ট প্রস্তুতিকরণ ও বিতরণ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করানো, বাংলার শিক্ষা পোর্টালে নম্বর নথিভুক্ত করা, সার্বিকভাবে মিড-ডে-মিল পরিচালনা, পোশাক-বই সহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি, যার মধ্যে নম্বর তোলা বা খাতা মূল্যায়ন বা রেজাল্ট প্রস্তুতিকরণ বা একাধিক প্রকল্পভিত্তিক কাজ।
তাই আলাদা করে আবার বিএলও ডিউটি পালন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই স্পষ্ট করেছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এসআইআর ইস্যুতে চরম কৌতূহল বাংলায়। বিহারের আদতে এখানেও এমনটা হবে কিনা, তা নিয়ে চর্চা চলছে। ইতিইমধ্যে বিএলও-দের বেতন বৃদ্ধি এবং বিশেষ ট্রেনিংয়ের খবরেও জল্পনা বেড়েছে।
যদিও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস থেকে এসআইআর নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সিইও শুধু জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।