ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে আইপ্যাকের দিকেও আঙুল তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 29 July 2025 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ বা এসআইআর (SIR) নিয়ে ফের রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সোমবারই বিএলও-দের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আর মঙ্গলবারই তাঁকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়ে দিলেন, ভুয়ো, অবৈধ ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়বেই, কেউ আটকাতে পারবে না।
মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য দফতরে (BJP Office) সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, কোনও নাম বাদ যেতে দেবেন না। আমি বলছি, নাম বাদ যাবেই।’’ তাঁর দাবি, ‘‘রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, মৃত ভোটার, একাধিক কেন্দ্রের তালিকায় নাম থাকা ভোটার এবং মুখ্যমন্ত্রী ও আইপ্যাকের যৌথ প্রচেষ্টায় ঢোকানো ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় থাকবে না। সেই নাম বাদ যাবেই।’’
ভুয়ো ভোটার (Fake Voter) ইস্যুতে আইপ্যাকের (I-PAC) দিকেও আঙুল তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, ‘‘প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তৃণমূল কোনও নির্বাচনেই প্রকৃত জনমতের ভিত্তিতে জেতেনি।’’ শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, ‘‘গত দশ বছরে রাজ্যের ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এটা অস্বাভাবিক।’’
বিএলও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলেও সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এগরার বিধায়ক তরুণ মাইতি নিজে স্বীকার করেছেন যে, ৮৪ জন অস্থায়ী কর্মীকে বিএলও করা হয়েছে। অথচ, যেখানে স্থায়ী কর্মী আছে, সেখানে অস্থায়ী কর্মীকে নিয়োগ করা যায় না। এটা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট লেখা আছে।
শুধু বিএলও নয়, ইআরও (ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) নিয়োগ নিয়েও শুভেন্দুর বড় অভিযোগ। বলেছেন, ‘‘দেশজুড়ে নির্দেশ আছে মহকুমাশাসক ছাড়া কেউ ইআরও হতে পারবেন না। অথচ রাজ্যে এই নির্দেশ মানা হচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে তাঁর নিশানায় রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পস্থ। তিনি নিজে নির্দেশিকা ভেঙেছেন বলে দাবি শুভেন্দুর।
প্রসঙ্গত, সোমবার বোলপুরে দাঁড়িয়ে বুথ লেভেল অফিসার তথা বিএলও-দের (BLO) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, তাঁদের দেখতে হবে ভোটার তালিকা থেকে যেন কারও নাম বাদ না যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, নির্বাচন কমিশন কিন্তু ভোট মিটে গেলে আর থাকবে না। বাংলার সরকারই থাকবে। কার্যত সেই বার্তারই পাল্টা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।