ডুয়ার্সে এর আগেও চিতাবাঘের হামলায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যারগেন্ডা চা বাগানে এবং ২০২৪ সালের ৫ জুলাই তোতাপাড়া চা বাগানে একইভাবে প্রাণ হারায় দুই শিশু।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 July 2025 08:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বানারহাটের কলাবাড়ি চা বাগানে চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যু হল তিন বছরের এক শিশুর (Leopard Attack)। শুক্রবার সন্ধেয় বাড়ির উঠোনেই বসে ছিল শিশুটি, সঙ্গে ছিলেন তার দাদু। আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি চিতাবাঘ। মুহূর্তের মধ্যেই শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায় চা বাগানের গভীরে (Jalpaiguri)।
পরবর্তীতে, চা বাগানের ১৮ নম্বর সেকশন থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির নিথর দেহ। শোক ও তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা। বন দফতর (Forest Department) ও পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বন্য জন্তুর হামলার ঘটনা আগেও ঘটেছে, তবু প্রশাসনের তরফে সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ, চা বাগানের ভিতরে চিতাবাঘ ঘোরাফেরা করছে জেনেও, অন্যান্য বনকর্মীদের আটকে রেখে মৃতদেহ কোলে নিয়ে বিন্নাগুড়ির রেঞ্জার হিমাদ্রি দেবনাথকে একাই পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাগানের ভিতরে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন ধূপগুড়ি মহকুমার পুলিশ আধিকারিক গেইলসন লেপচা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন তিনি। বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, গত দু’মাসে কলাবাড়ি চা বাগান এলাকা থেকে তিনটি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। এখনও একাধিক খাঁচা পাতা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চা বাগানের আশপাশে থাকা ঘন বসতিতে বন দফতরের তরফে কোনও সতর্কতা বা সুরক্ষা নেই। যার জেরে বারবার ঘটে চলেছে বন্যপ্রাণীর হামলা।
জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, “রাত ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। একটি ৩ বছরের শিশুকে চিতাবাঘ তুলে নিয়ে যায়। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ, চেষ্টা চলছে শান্তি ফেরানোর।”
ডুয়ার্সে এর আগেও চিতাবাঘের হামলায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যারগেন্ডা চা বাগানে এবং ২০২৪ সালের ৫ জুলাই তোতাপাড়া চা বাগানে একইভাবে প্রাণ হারায় দুই শিশু।