দ্য ওয়াল ব্যুরো: বামেদের বিক্ষোভ ঘিরে ধুন্ধুমার কলকাতা পুরসভার সামনে। কসবা ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের প্রতিবাদে জমায়েত করেন তাঁরা। অভিযোগ, পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে বচসা এবং ধস্তাধস্তি চলে বাম কর্মী-সমর্থকদের, গ্রেফতার করা হয় বাম যুবনেত্রী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়কে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ মিছিলের কথা আগেই জানানো হয়েছিল বামেদের তরফে। এলিট সিনেমা হলের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর কথা ছিল তাদের। সেইমতো সেখানেই ব্যারিকেড তৈরি করেছিল পুলিশ। তবে সেই বাধা সরিয়ে কলকাতা পুরসভার দিকে এগোতে থাকেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশ পথ আটকালে শুরু হয় ঝামেলা।

পুরসভার সামনে নকল সিরিঞ্জ নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দাবি করা হয়, অনেক বড় কারসাজি রয়েছে এই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের নেপথ্যে। অনেকে যুক্ত রয়েছেন। এটা তো একটা দেবাঞ্জন বেরিয়েছে। আশঙ্কা, আরও অনেক দেবাঞ্জন লুকিয়ে রয়েছে বাংলায়। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে যাবে।
বিক্ষুব্ধ বাম কর্মী-সমর্থকরা এদিন জানান, পুরসভার ভিতরে ঢুকে কমিশনারের হাতে স্মারকলিপি জমা দেবেন তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পাওয়মাত্রই বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছয় পুরসভার সামনে। তার পরেও নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে ধস্তাধস্তি চালায় বামেরা। এর পরেই পুলিশ বাম যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, আগাম অনুমতি না নিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জন্য কাউকে পুরসভার ভিতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব নয়।
কলকাতা পুরসভার পাশাপাশি এদিন সকালে সল্টলেকে স্বাস্থ্যভবনের সামনেও বিক্ষোভ করেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। এদিন সকালে বামেদের ডাকে স্বাস্থ্যভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। যদিও স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছানোর আগেই বিরাট পুলিশ বাহিনী বাম কর্মীদের আটকে দেয়। সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার আগেই বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, কোভিড পরিস্থিতিতে এসব করা যাবে না। তাই তাদের আটক করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে কসবার ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ড। কয়েক দিন আগে ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্পে টিকা নিয়ে প্রতারকের খপ্পরে পড়েছিলেন খোদ সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তিনি জানান, টিকা নেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর কাছে কোনও সার্টিফিকেট আসেনি। এমনকি রেজিস্ট্রশনের কোনও তথ্যও আসেনি মোবাইল নম্বরে। আর এতেই খটকা লাগে অভিনেত্রীর। এর পরেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তিনি। পুলিশেও খবর দেন। তার পরেই সামনে আসে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের নাম। যার সঙ্গে তৃণমূলের একাধিক নেতা মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে।
ভুয়ো ভ্যাকসিন নিয়ে ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গতকাল, রবিবার এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবীতে কসবা থানার সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয় বামফ্রন্ট। একই দাবিতে সোমবার স্বাস্থ্যভবনে ও পুরসভায় জমায়েত বিক্ষোভ করে তারা।