অরিন্দমবাবুর বক্তব্য, “বিজ্ঞপ্তির সেই অংশই উপেক্ষিত হচ্ছে আজ। অনেকেই জানেন না, জাতীয় পতাকার অবমাননা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ হয় যে তিনি পতাকার অসম্মান করেছেন, তাহলে তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 20 August 2025 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) পেরিয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক দিন। তবু রাস্তার মোড়ে, ট্রাকের গায়ে, দোকানের চালায়, এমনকি পুকুরের ধারে কিংবা ক্লাবঘরের ছাদে এখনও উড়ছে জাতীয় পতাকা (National Flag)। তবে কোথাও সেটা রংচটা, কোথাও আবার আধখানা ছিঁড়ে উধাও, বাকিটা কেবল হাওয়ায় দুলছে। কোনও কোনও জায়গায় তো পতাকা পড়ে রয়েছে কাদাজলে।
এই চিত্র চোখে পড়তেই ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) আইনজীবী অরিন্দম দাস। কেন্দ্র ও রাজ্য—দু'পক্ষকেই পাঠালেন নোটিস। তাঁর দাবি, ‘জাতীয় পতাকার এ হেন অবমাননা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না।’ একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি, প্রয়োজনে জনস্বার্থ মামলা করা হবে উচ্চ আদালতে।
আইনজীবী অরিন্দমবাবু বলেন, “অনেকেই হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে করছেন না। তবু এই মুহূর্তে সারা দেশজুড়ে যেভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি যেমন প্রশংসনীয়, তেমনই এর সীমাবদ্ধতা আর দায়িত্বটাও বোঝানো দরকার।”
২০২৩ সালে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির আওতায় ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িতে ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সেইসঙ্গে নির্দেশও জারি হয়, ১৫ আগস্টের পর পতাকা নামিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে।
অরিন্দমবাবুর বক্তব্য, “বিজ্ঞপ্তির সেই অংশই উপেক্ষিত হচ্ছে আজ। অনেকেই জানেন না, জাতীয় পতাকার অবমাননা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ হয় যে তিনি পতাকার অসম্মান করেছেন, তাহলে তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।”
জাতীয় পতাকা আইনের এই দিকগুলো জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সব রাজ্য সরকার ও সংবাদমাধ্যমকে উদ্যোগী হওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পুরনো নির্দেশিকাগুলি নতুন করে প্রচারের দাবিও জানিয়েছেন ওই আইনজীবী।
নোটিসে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না করলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হবে। এখন দেখার, সরকারের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।