দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় বাহাত্তর ঘন্টা পর অবশেষে ঘুম ভাঙল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে আবেদন জানালেন, বাইরের রাজ্য থেকে যে শ্রমিকরা এসে রাজধানী শহরে কাজ করেন তাঁরা যেন, বাড়িতেই থাকেন। সরকার বাড়ি ভাড়া দেবে।
কেজরিওয়াল এও বলেন, কারও যদি থাকার জায়গা না থাকে, তা হলে সরকার তারও ব্যবস্থা করে দেবে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কেজরিওয়াল বলেন, “বহু শ্রমিক-মজুরকে দেখছি অন্য রাজ্যে নিজেদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের কাছে হাতজোড় করে বলছি, কোথাও যাবেন না। এখানেই থাকুন।” দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন যিনি যে শহরে রয়েছেন, সেখানেই যেন থাকেন। জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়। এটাই লকডাউনের মন্ত্র। এ কথা না শুনলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা পর্যুদস্ত হয়ে যাব।”
তাঁর কথায়, “যদি দু-চার জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে থাকে তবে তা থেকে আপনার শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আপনি গ্রামে ফিরে গেলে, আপনার থেকে গ্রামের মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তখন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।” কেজরিওয়ালের এই সাংবাদিক বৈঠকের আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবেদন করে বলেছেন, বাড়ির মালিকরা যেন একমাস বাড়ি ভাড়া না নেন।
গত তিন দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, দিল্লি ছেড়ে মূলত উত্তরপ্রদেশের শ্রমিক, মজুররা সপরিবারে ফিরে যাচ্ছেন তাঁদের গ্রাম-দেহাতের বাড়িতে। ট্রেন, বাস বন্ধ। তাই কেউ দু’শো কিলোমিটার, কেউ তিনশো কিলোমিটার পথ হেঁটে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়েছেন। কাতারে কাতারে শ্রমিকরা চলেছেন জাতীয় সড়ক ধরে। সেই সঙ্গে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের সীমান্তে আনন্দবিহার বাস টার্মিনালে হত্যে দিয়ে রয়েছেন অন্তত বিশ হাজার মানুষ।
কেজরিওয়ালের এদিন সাংবাদিক বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠেছে, তিন দিন আগেই এই ঘোষণা কেন করেননি তিনি? কেন আগে টনক নড়েনি আম আদমির সরকারের?
দিল্লিতে কাজ করা এই শ্রমিকরা কিন্তু অনেকেই দিল্লির ভোটার। হয়তো বা এঁদের অনেকেই ভোটও দিয়েছেন কেজরিওয়ালের পক্ষে। স্বাভাবিক ভাবেই সরকারের সংবেদনশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লিতে বাইরে থেকে যে শ্রমিকরা কাজ করতে আসেন তাঁরা কেউ কিন্তু রাস্তায় থাকেন না। বেআইনি কলোনি, ঝুগ্গি, ঝুপড়িতে থাকেন। এঁদের অনেকেই বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আশঙ্কাতেই দিল্লি ছাড়ছিলেন। কারণ, কাজ বন্ধ থাকলে মাইনে পাবেন না। ভাড়া দেবেন কী করে!
কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা বলেন, এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। কেজরিওয়াল চাইলে তাঁদের অনেককেই সরকারি স্কুল-কলেজে থাকতে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতেন। সরকার থেকে এমনিতেই চাল গম দেওয়ার কথা। সেই সঙ্গে প্রায় প্রতিটি মহল্লাতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি গরিব পরিবারের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করছে। তা ছাড়া দিল্লির সরকারের অর্থাভাবও নেই। যে সরকার বছরে ৫০০ কোটি টাকা স্রেফ বিজ্ঞাপনের জন্য খরচ করতে পারে, সে মানুষের বিপদের দিনে খরচ করতে পারে না!