গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে তৎপর লালবাজার। শহরের গ্যাস গোডাউনগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 13 March 2026 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (West Asia War) আঁচ এবার পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। তৈরি হয়েছে রান্নার গ্যাসের সংকট (LPG Crisis)। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তেও তার প্রভাব স্পষ্ট। কোথাও কোথাও এলপিজি (LPG) না মেলায় রান্নাবান্না কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে। হোটেল (Hotel) ও রেস্তরাঁ (Restaurant)-র ঝাঁপ পড়ছে একের পর এক। এমনকী সড়ক পরিবহণেও জ্বালানির অভাবের প্রভাব পড়েছে। অটোতে (Auto) বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।
এই পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্দশার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে গ্যাসের কালোবাজারি (Black Marketing)। বিষয়টি সামনে আসতেই বুধবার কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এরপর শহরে গ্যাসের কালোবাজারি ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে লালবাজার (Lalbazar)।
পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতায় (Kolkata) যাতে গ্যাসের সংকট আরও না বাড়ে, সে জন্য কালোবাজারি বন্ধে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। লালবাজারের তরফে সতর্ক করা হয়েছে শহরের প্রতিটি ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনারদের (Deputy Commissioner)। সেই নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতেও (Police Station)।
একই সঙ্গে নজরদারি শুরু করেছেন কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখার (Enforcement Branch) আধিকারিকরা। পুলিশের মূল নজর এখন শহরের গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউনগুলির (Gas Cylinder Godown) উপর। সেখানে গিয়ে সিলিন্ডারের স্টক (Stock) মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রাহকদের অর্ডারের বাইরে কোনও সিলিন্ডার পাচার হচ্ছে কি না, বা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
এছাড়া বাড়িতে ব্যবহার হওয়ার কথা যে রান্নার গ্যাস (Domestic LPG), তা কোনও বাণিজ্যিক কাজে (Commercial Use) লাগানো হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন থানার আধিকারিকরা। বেআইনিভাবে কেউ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রাখলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
এর আগেও শহরে এমন কিছু চক্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল যারা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে নিজস্ব পদ্ধতিতে গ্যাস বের করে ছোট সিলিন্ডারে ভরে বিক্রি করত। অনেক ক্ষেত্রে সেই গ্যাস পরিবহণের কাজেও ব্যবহার করা হত। এমন চক্রের উপরেও এবার কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে পুলিশ বারাকগুলিতেও (Police Barrack) নজর রাখা হচ্ছে। সেখানে যাতে গ্যাসের অভাব না হয়, সে জন্য বিকল্প জ্বালানি (Alternative Fuel) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ইন্ডাকশন (Induction) ও মাইক্রোওভেন (Microwave) ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনের আশা, কঠোর নজরদারির ফলে গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষও স্বস্তি পাবেন।
কালোবাজারি ঠেকাতে কলকাতার পাশাপাশি নজরদারি চলছে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও ছত্তিসগড়ে। রাজধানীর পরিস্থিতিও একইরকম। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করে বেআইনি কেনা-বেচা আটকানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন লক্ষ্য একটাই, দেশে মজুত থাকা গ্যাস যাতে সকলের কাছে পৌঁছয়, কালোবাজারি বন্ধ ও গুজব না ছড়ায়।