
শেষ আপডেট: 30 October 2020 18:30
আগামী ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার থেকে বঙ্গোপসাগরে মালাবার নৌমহড়া শুরু হচ্ছে। এই মহড়ায় যোগ দিতে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া—এই চার শক্তির কোয়াড তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, প্রকৃতপক্ষে এই চতুর্দেশীয় অক্ষের জন্মই হয়েছিল চিন-বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে। সমুদ্রপথে বেজিংয়ের একাধিপত্য, সীমান্তবর্তী দেশগুলির ভূখণ্ডের প্রতি চিনের আগ্রাসন রুখতেই একজোট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। সমুদ্রপথে চিনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এ বছর মালাবার নৌমহড়ায় অস্ট্রেলিয়াকেও নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, এ বছরের বার্ষিক নৌহমড়ার উদ্দেশ্য হল ইস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ড ও ওয়েস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ডকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া। একদিকে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লক্ষদ্বীপ ও উপকূলীয় সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, অন্যদিকে, কর্নাটককে ফোকাসে রেখে কারওয়ার বেসে নৌশক্তি বাড়িয়ে তোলা।
গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পরেই আন্দামান-নিকোবরের কাছে মালাক্কা প্রণালীতেও নৌবহর বাড়িয়েছে ভারত। রণকৌশলগত ভাবে এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত মহাসাগরে চিনা বাহিনীর প্রবেশের এটাই একমাত্র জলপথ। চিনের নৌবাহিনী এই পথেই ভারতীয় নৌবাহিনীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালায়। বহু পণ্যবাহী চিনা জাহাজও এই পথে যাতায়াত করে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই পথ দিয়ে ভারতীয় সীমায় ঢোকার চেষ্টা চালাতে পারে চিনের নৌবহর।
গালওয়ান সংঘাতের পর থেকে দক্ষিণ চিন সাগরেও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ভারত। বিতর্কিত এই এলাকা নিজেদের জলসীমার অন্তর্গত বলে দাবি করে আসছে চিন। কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে পণ্যবাহী জাহাজের নামে গুপ্তচর জাহাজ পাঠিয়ে নজরদারি চালিয়ে আসছে তারা। ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ চিন সাগরে রণতরী পাঠিয়েছে আমেরিকাও।
ভারত প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছে। গালওয়ান সীমান্ত সংঘাতের আগেই ভারত মহাসাগরে ক্ষেপণান্ত্র প্রতিরোধী চিনা যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ভারত মহাসাগরে বিশেষ ব্যবসায়িক এলাকা (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি কয়েকটি চিনা জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। বেজিং দাবি করেছিল, জলদস্যু দমনের জন্যই নামানো হয়েছিল ওই জাহাজগুলিকে। কিন্তু ভারতীয় নৌসেনার নজরদার বিমানে ধরা পড়ে চিনা জাহাজগুলিকে ঘিরে রেখেছে পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের। ওই এলাকায় চিনের বাড়াবাড়ি থামাতে পি-৮ আই বিমানও নামিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। উপকূল এলাকায় নজরদারি, শত্রুপক্ষের জাহাজ এবং সাবমেরিনের অবস্থান জানা এবং প্রয়োজনে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই বিমান ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্যতম বড় অস্ত্র। হারপুন ব্লক-২ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হালকা ওজনের টর্পেডোকে এই বিমানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শক্তিশালী রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে শত্রুসেনার যুদ্ধজাহাজ বা ডুবোজাহাজের খোঁজ পেয়ে ধ্বংস করতে পারবে এই বিমান। এমনকি গোপনেও যদি শত্রুপক্ষের সাবমেরিন হানা দেয়, তাহলেও তা রুখে দিতে পারবে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী এই বিমান।