এর আগের নীতি আয়োগের যে বৈঠক হয়েছিল তাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে সেই অভিজ্ঞতা থেকে ঠেকে শিখেই এবার বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা।

সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা
শেষ আপডেট: 24 May 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর না যাওয়ার স্পষ্ট কোনও কারণ দলের তরফে না বলা হলেও শনিবার তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ না দেওয়ার অন্যতম কারণ হতেই পারে রাজ্যের বকেয়া টাকা কেন্দ্রের আটকে রাখা।
ঘটনা হল, এর আগের নীতি আয়োগের যে বৈঠক হয়েছিল তাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে সেই অভিজ্ঞতা থেকে ঠেকে শিখেই এবার বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। সে'বার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে দেওয়া হয়নি। বক্তব্যের মাঝপথে তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে কক্ষ ত্যাগ করেন তিনি।
যদিও শনিবার তৃণমূল ভবনে কুণাল ঘোষ ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, মমতার না যাওয়ার কারণ হতেই পারে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা। কুণাল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী সব রাজ্যকে হাতে হাত ধরে এক হয়ে কাজ করার কথা, অমুক তমুক বলছেন, তাহলে বাংলার বকেয়াগুলো কোথায় গেল? বাংলা থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, বাংলায় একশো দিনের কাজ করিয়েছেন, সেই টাকা দেননি প্রধানমন্ত্রী। ৫৯ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারকে ৩৭ হাজার কোতি টাকা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাও পুরোপুরি রাজ্যের তহবিল থেকে। ১২ লক্ষ আবাসের টাকা দেয়নি কেন্দ্র। সেটাও বাংলার বাড়ি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছেন।
যদিও সরাসরি কারণ দর্শাতে চাননি কুণাল। তিনি স্পষ্ট করে বলে দেন, নীতি আয়োগের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে তাঁরা একটিও মন্তব্য করবেন না। যখন দরকার তখন মুখ্যমন্ত্রী বা সরকার কারণ জানিয়ে দেবেন। কিন্তু কুণাল এও বলেন, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা যদি হাতে হাত মেলানোর কথা বলেন তাহলে বাংলার মতো একটা রাজ্যকে বঞ্চিত না করে, ফাঁকা বুলি আওড়ানো মানায় না।