বিগত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন তাঁকে প্রয়োজনীয় কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মাইক মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রতিবাদে কক্ষ ত্যাগ করেন।
.jpeg.webp)
প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 24 May 2025 09:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার দিল্লিতে নীতি (Niti Ayog at New Delhi) আয়োগের বৈঠকে সব মুখ্যমন্ত্রীকে (Chief Minister’s meeting) ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর। মনে করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীদের এই অভিযানের বিষয়ে অবহিত করবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিকশিত রাজ্য। ২০৪৭, অর্থাৎ স্বাধীনতার শতবর্ষকে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্যগুলির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিতে চায় কেন্দ্র। শনিবারের বৈঠকে এই ব্যাপারে কেন্দ্রের লক্ষ্য ও নির্দেশিকা মুখ্যমন্ত্রীদের সামনে পেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রের মন্ত্রীরা।
পাকিস্তানের জঙ্গি সন্ত্রাসের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীদের অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের (Bangladeshi infiltrator) ফেরত চিহ্নিত ও ফেরত পাঠানোর বিষয়ে রাজ্যগুলির দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গত সপ্তাহেই কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে তিরিশ দিনের মধ্যে বেআইনিভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করতে বলেছে।
এদিকে, শনিবারের এই বৈঠকে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগ দিচ্ছেন না বলে খবর। তাঁদের অন্যতম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ব্যাপারে নবান্নের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে কোনও কোনও মহল নীতি আয়োগের বৈঠকের ঘটনার সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছে। বিগত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন তাঁকে প্রয়োজনীয় কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মাইক মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রতিবাদে কক্ষ ত্যাগ করেন। যদিও কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি উড়িয়ে পাল্টা বলেছিলেন, তাঁকে বরাদ্দ সময় পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়েছিল। মাইক বন্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেনি। মুখ্যমন্ত্রী সেদিনই বলেছিলেন, নীতি আয়োগের বৈঠকে আর যোগ দেবেন না।
শনিবারের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কর্নাটকের সিদ্দারামাইয়া। পিনারাইয়ের রাজ্যে বিধানসভা ভোট আসন্ন। তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিশেষ খাতিরের সম্পর্ক নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা সরব। সেই অভিযোগ নসাৎ করতে পিনারাই নিজে বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। তবে কেরলের অফিসারেরা নীতি আয়োগের অফিসার পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন।
কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও যোগ দিচ্ছেন না শনিবারের বৈঠকেও। তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কর্নাটকের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগে সরব। তবে কংগ্রেস শাসিত অপর দুই রাজ্য তেলেঙ্গানা এবং হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা যোগ দিচ্ছেন। ২০১৮-র পর এই প্রথম তেলেঙ্গানার কোনও মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে লাগাতার বিবাদে লিপ্ত তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্তালিনও বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন।