বাম আমলের বর্ষীয়ান নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর (Kshiti goswami) বড় মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামী (Basundhara Goswami) ইতিমধ্যেই তৃণমূল শিবিরে (TMC News)। ছোট মেয়ে কস্তুরী (Kasturi Goswami) সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।
.jpeg.webp)
ক্ষিতি গোস্বামীর এক মেয়ে বিজেপিতে অন্যজন তৃণমূলে
শেষ আপডেট: 17 February 2026 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন 'ছিপ নিয়ে গেল কোলাব্যাঙে, মাছ নিয়ে গেল চিলে'। রাজনীতিতে রক্তের সম্পর্কের চেয়ে নিজের মতামতের দাম যে অনেক সময়ই ঢাউস, এই কথাটা আবারও প্রমাণ করে দিল গোস্বামী পরিবার। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের (Assembly Election News) দিনক্ষণ ঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। তার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে এক বাড়ির দুই বোন দুই শিবিরে। একজন ঘাসফুলে, অন্যজন পদ্মে (BJP News)।
বাম আমলের বর্ষীয়ান নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর (Kshiti goswami) বড় মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামী (Basundhara Goswami) ইতিমধ্যেই তৃণমূল শিবিরে (TMC News)। ছোট মেয়ে কস্তুরী (Kasturi Goswami) সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। অর্থাৎ, এককালের আরএসপি ঘরের উঠোন এখন কার্যত সর্বদলীয় গণতন্ত্রের মঞ্চ।
শাসক দল তৃণমূল '২১ সালে কলকাতা পুরভোটে ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডে বসুন্ধরাকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল। নাম ঘোষণার পরেই অনেকে অবাক হয়েছিলেন। বাম নেতার কন্যা, অথচ ঘাসফুলের মুখ, চর্চা হয়েছিল। তবে বসুন্ধরার যুক্তি ছিল, তাঁর বাবা নাকি বরাবরই শ্রদ্ধা করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজনীতির আইরনি বলতে যা বোঝায়!
বসুন্ধরার দাবি ছিল, বাম-শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা, এ কথা ক্ষিতিবাবু প্রশংসার সঙ্গেই দেখতেন।
২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ক্ষিতি গোস্বামীর প্রয়াণের পরের বছরই তৃণমূলে যোগ দেন বসুন্ধরা। পেশায় মনস্তত্ত্ববিদ, মাঠে-ঘাটে রাজনীতির চেনা মুখ না হলেও সম্প্রতি দলীয় মুখপত্রে ‘বঙ্গ রাজনীতিতে নারীশক্তি’ শীর্ষক প্রবন্ধ লিখে শিরোনামে এসেছিলেন। সিপিএমের কড়া সমালোচনা করে তিনি লিখেছিলেন, বামফ্রন্টকে শূন্যে নামানোর খেলায় সিপিএম নিজেই সিদ্ধহস্ত। কথায় ছিল কাঁটা, ভঙ্গিতে ছিল বিদ্রুপ।
এদিকে ছোট বোন কস্তুরীর পথ আলাদা। তিনি বিজেপিতে। এদিন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও শংকর ঘোষের উপস্থিতিতে বিজেপিতে চলে বিশিষ্টদের যোগদান পর্ব। ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে কস্তুরী গোস্বামী গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন। তিনি আইনের ছাত্রী ছিলেন। অর্থাৎ, বিজেপির বিরুদ্ধে হাঁক ডাক দিচ্ছেন কাউন্সিলর দিদি। আর পদ্মশিবিরে নতুন আশ্রয় নিয়েছেন বোন।
গোস্বামী বাড়ির এই দুই মেরু বঙ্গ রাজনীতির এক মজাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এক সময় যে পরিবার বাম রাজনীতির পরম্পরায় পরিচিত ছিল, আজ সেই পরিবারেরই এক কন্যা তৃণমূলের প্রার্থী, অন্য কন্যা বিজেপির কর্মী। বলা যায়, গণতন্ত্রের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ছবি কখনও কখনও সংসারেই আঁকা থাকে। মত আলাদা, মঞ্চ আলাদা, পতাকা আলাদা, তবু পদবিটা এক। আর বাংলার রাজনীতি? সে তো বরাবরই নাটকীয়তায় ভরপুর। গোস্বামী বাড়ি কেবল সেই নাটকের নতুন দৃশ্য যোগ করল।