এই অভিনব উদ্যোগে গ্রামের কৃষকরা বাদাম চাষে উৎসাহিত হবেন বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন। পুজোর উদ্বোধনও করা হয়েছে এমন একজনের মাধ্যমে, যিনি গ্রামের বাদাম চাষ নিয়ে গান গেয়েছেন, যাতে নতুন উদাহরণ স্থাপন করা যায়।
_0.jpg.webp)
বাদামের খোলা দিয়ে তৈরি প্রতিমা (ছবি- সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 29 September 2025 21:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে এবছরের দুর্গাপুজোতে (DURGAPUJA 2025) নজর কেড়েছে অজয় স্মৃতি ক্লাবের থিম- 'বাদাম দুর্গা'। ৩০তম বছরে ক্লাবের উদ্যোক্তারা সৃজনশীলতায় বিশেষ ঝোঁক দেখিয়েছে। ছ'মাস আগে তাঁরা পরিকল্পনা করেন, এবছর দুর্গামূর্তিসহ পুরো প্যান্ডেল বানানো হবে বাদামের খোলার সাহায্যে। তারপর, ঠিক যেমন ভাবা তেমন কাজ।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে মহিলারা মূল দায়িত্ব নিয়েছেন। এলাকা জুড়ে প্রচার চালানো হয়েছে, যাতে সবাই খাওয়া বাদামের খোলাগুলো (Peanuts Shell) ফেলে না দিয়ে জমিয়ে রাখেন। এরপর সেসব খোলা সংগ্রহ করে প্যান্ডেল ও প্রতিমা তৈরি করা হয়।
এই অভিনব উদ্যোগে গ্রামের কৃষকরা বাদাম চাষে উৎসাহিত হবেন বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন। পুজোর উদ্বোধনও করা হয়েছে এমন একজনের মাধ্যমে, যিনি গ্রামের বাদাম চাষ নিয়ে গান গেয়েছেন, যাতে নতুন উদাহরণ স্থাপন করা যায়।
অজয় স্মৃতি ক্লাব নদিয়ায় থিমভিত্তিক দুর্গাপুজোর পথপ্রদর্শক। এর আগে তারা পাটের প্যান্ডেল ও দুর্গা বানিয়ে জেলার সেরা সম্মান অর্জন করেছিল। সময়ের সঙ্গে ক্লাব প্রতিবছর নতুন থিম উপস্থাপন করে দর্শকদের মুগ্ধ করছে।
পুজো উদ্যোক্তা প্রিয়াঙ্কা কুণ্ডু বলেন, 'এক বছর আগে আমরা পরিকল্পনা করি বাদামের দুর্গা বানাব। প্রতিটি বাড়ি থেকে খোলাগুলো সংগ্রহ করে আমরা কাজটি শেষ করতে পেরেছি। মহিলারা যে বড় কিছু করতে পারে, তা দেখাতে চেয়েছি।' আরেক উদ্যোক্তা বলেন, 'আমরা ভাবছিলাম মিলেমিশে ঠিকভাবে কাজ হবে কি না। কিন্তু এই উদ্যোগ প্রমাণ করে মহিলারা সমাজে পিছিয়ে নেই।' এই ভাবেই অজয় স্মৃতি ক্লাবের থিমভিত্তিক পুজোর ধারাবাহিকতা আগামী বছরেও চলবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তারা।
কৃষ্ণগঞ্জের (Krishnaganj) আরও একটি পুজো নজর কেড়েছে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র অঙ্কুশ বিশ্বাস নিজের উদ্যোগে দুর্গাপুজো করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বছর দশের অঙ্কুশের স্বপ্ন ছিল একদিন নিজে দুর্গাপুজো করবে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু। প্রতিদিন দশ টাকা করে টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে জমায় সামান্য অর্থ। বন্ধুর কাছ থেকে এক টাকা ধার করে মোট ১১ টাকায় প্রতিমার বায়নাও দিয়ে আসে সে। পরিবারের কেউ প্রথমে কিছুই টের পায়নি। তবে পরে বুঝতে পারলে মায়ের কাছে সবটা খুলে বলে অঙ্কুশ। প্রথম দিকে আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ছেলের ইচ্ছের কাছে হার মানতে হয় বাবা-মাকে। পরিবারের সকলকেই নিজের পাশে পেয়েছে অঙ্কুশ।