বছর দশের অঙ্কুশের স্বপ্ন ছিল একদিন নিজে দুর্গাপুজো করবে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু। প্রতিদিন দশ টাকা করে টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে জমায় সামান্য অর্থ। বন্ধুর কাছ থেকে এক টাকা ধার করে মোট ১১ টাকায় প্রতিমার বায়নাও দিয়ে আসে সে।

একার চেষ্টায় দুর্গাপুজো করল নদিয়ার ছাত্র
শেষ আপডেট: 29 September 2025 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে এ বছর দুর্গাপুজোয় নজর কেড়েছে এক খুদে আয়োজক। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র অঙ্কুশ বিশ্বাস নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছে এক অভিনব পুজোমণ্ডপ। ছোট্ট বয়সে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এমন আয়োজন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।
বছর দশের অঙ্কুশের স্বপ্ন ছিল একদিন নিজে দুর্গাপুজো করবে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু। প্রতিদিন দশ টাকা করে টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে জমায় সামান্য অর্থ। বন্ধুর কাছ থেকে এক টাকা ধার করে মোট ১১ টাকায় প্রতিমার বায়নাও দিয়ে আসে সে। পরিবারের কেউ প্রথমে কিছুই টের পায়নি। তবে পরে বুঝতে পারলে মায়ের কাছে সবটা খুলে বলে অঙ্কুশ। প্রথম দিকে আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ছেলের ইচ্ছের কাছে হার মানতে হয় বাবা-মাকে। পরিবারের সকলকেই নিজের পাশে পেয়েছে অঙ্কুশ।
ছোটদের জন্য ছোট পুরোহিত- এই ভাবনা থেকেই মণ্ডপে পুরোহিতের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই নাবালক ব্রাহ্মণকে। ঢাকি না পেয়ে অঙ্কুশ স্থানীয় এক মন্দির থেকে ঢাক ধার করে আনে। আশ্চর্যের বিষয়, সেই ঢাকও বাজাচ্ছে সে নিজেই। বড় পুজোর মতোই এখানে সময়সূচী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে একটি বোর্ডে। মণ্ডপে সাজানো প্রতিটি আয়োজনেই ধরা পড়ছে খুদে আয়োজকের নিষ্ঠা।
অঙ্কুশের বাবা অজয় বিশ্বাস জানালেন, প্রথম দিকে পরিবারের আপত্তি থাকলেও ছেলের একাগ্রতা দেখে তাঁরাও মুগ্ধ হয়েছেন। তাঁর কথায়, 'আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে যে এত বড় আয়োজন ছেলের উদ্যোগেই সম্ভব হয়েছে। সবটাই ঈশ্বরের কৃপা।'
অঙ্কুশের এই প্রচেষ্টা শুধু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশীরাও তার সঙ্গে মেতে উঠেছেন। ছোট্ট হাতে গড়া এই পূজা এখন গ্রামের অন্যতম আকর্ষণ।