২০ দিনের মাথায় ফের তৃণমূল নেতা খুন রাজ্যে। হাওড়ার কোন্নগরের কানাইপুরে বুধবার সন্ধ্যায় দুষ্কৃতী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য পিন্টু চক্রবর্তী ওরফে মুন্না।

নিহত তৃণমূল নেতা
শেষ আপডেট: 31 July 2025 09:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০ দিনের মাথায় ফের তৃণমূল (TMC) নেতা খুন রাজ্যে। হাওড়ার কোন্নগরের (Konnagar) কানাইপুরে বুধবার সন্ধ্যায় দুষ্কৃতী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য পিন্টু চক্রবর্তী ওরফে মুন্না। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর উপর ধারাল অস্ত্র নিয়ে একের পর এক আঘাত চালায় একদল দুষ্কৃতী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার SSKM হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (Death)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় মুন্না একাই ছিলেন। কানাইপুর অটো স্ট্যান্ডের কাছে আচমকাই তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আততায়ীরা। এলাকা থেকেই প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে সেখান থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হামলায় তৃণমূলের নেতা হাতের অংশ কবজি থেকে বাদ হয়ে গেছিল। এছাড়া ঘাড়ে, গলায়, বুকেও ছিল ক্ষতের চিহ্ন।
ঘটনার পরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কানাইপুরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুন্না। পঞ্চায়েতেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এক সময়কার তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন প্রধান আচ্ছেলাল যাদবের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তিনি, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হয়েছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবেশ ঘোষ, এলাকার অন্যান্য তৃণমূল নেতা এবং পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। ঘটনাস্থলটি যে রাস্তার পাশে, সেটিই পরিবহণমন্ত্রীর নিয়মিত যাতায়াতের পথ বলে জানা গেছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। আলো কম থাকা ওই রাস্তায় ঢিল ছোড়ার দূরত্বেই একটি মদের দোকান রয়েছে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
তবে, কে বা কারা এই খুনের পেছনে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা না কি দলীয় কোন্দল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে।