
শেষ আপডেট: 24 February 2024 22:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোন্নগরের শিশু খুনে গ্রেফতার মা ও মায়ের বান্ধবী। পুলিশের অনুমান, দুই মহিলার সমপ্রেম সম্পর্কের জেরেই প্রাণ দিতে হয় ফুটফুটে শিশুকে। কোন্নগরে শিশু খুনের তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। তদন্ত যতই গভীরে যাচ্ছে, ততই হাড়হিম করা রহস্যের পর্দা খুলছে। ছোট্ট শ্রেয়াংশু শর্মাকে কেন খুন হতে হল সে নিয়েই তোলপাড় করে তদন্ত চলছে। শিশুটির মা শান্তা শর্মার ছবি সামনে এলেও, তাঁর সেই বান্ধবী এতদিন আড়ালেই ছিলেন। এই প্রথম সেই বান্ধবীর ছবি প্রকাশ্যে এল।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মা শান্তার বান্ধবীর নাম ইফফাত পারভিন। তাঁর মদতেই নাকি খুনের পরিকল্পনা করা হয়। এই ইফফাতকে দেখে বোঝাই যাবে না, যে শান্ত-নিরীহ মুখের আড়ালে কত বড় অপরাধী মন লুকিয়ে আছে। টানা চোখ, ফর্সা রঙ, টিকলো নাক, পেতে আঁচড়ানো চুল। পুলিশ জেরা করে জেনেছে, সুন্দরী ইফফাতের প্রেমেই পড়েছিলেন শান্তা। তাঁদের দু’জনের বন্ধুত্ব এক গভীর প্রেমের সম্পর্কে বদলে যায় সেই কিশোরী বেলা থেকেই।
দু’জনকে জেরা করে জানা গেছে, ছোট থেকেই বন্ধুত্ব ছিল শান্তা ও ইফফাতের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতাও বাড়ে। দুই বান্ধবীর মেলামেশাকে স্বাভাবিকভাবে নিতেন না পরিবারের কেউই। এমনকী শান্তার পরিবার নাকি ইফফাতের সঙ্গে শান্তার মেলামেশাকে একেবারেই পছন্দ করতেন না। পাড়া-প্রতিবেশীরাও এই বন্ধুত্বকে বাঁকা চোখেই দেখতেন।
শান্তার বিয়ের পরে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কও ভাল ছিল না বলে জেনেছে পুলিশ। শান্তার স্বামী পঙ্কজ শর্মা পুলিশকে জানিয়েছেন, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। শুরু থেকেই তাঁদের সম্পর্কে শীতলতা ছিল। ছেলে হয়ে যাওয়ার পরেও তা ঠিক হয়নি। বরং দিন দিন দূরত্ব বাড়ছিল। প্রায়ই ইফফাতের সঙ্গে দেখা করতে একাই চলে যেতেন শান্তা। দু’জনে মিলে কখনও দেশের বাড়ি বিহার, কখনও দিল্লি ঘুরতে চলে যেতেন। রাতের পর রাত ইফফাতের বাড়িতে থাকতেন শান্তা। ছেলেকে কখনওই সঙ্গে নিতেন না। দুই বান্ধবীর মেলামেশাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছিলেন পঙ্কজ। তাই আপত্তি করেননি তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক বছর আগে একটি মন্দিরে গিয়ে মালা বদল করেন শান্তা ও ইফফাত। শান্তার মোবাইল ঘেঁটে দুজনের বিয়ের ছবি পাওয়া গেছে। পঙ্কজ জানিয়েছেন, তার স্ত্রী ও ইরফাত বছর দুয়েক আগে দিল্লি গিয়েছিল। তখন ছেলেকে সঙ্গে নেয়নি। গত বছর বিহারে গিয়েছিল দুজনে। তখন ছেলে ছিল সঙ্গে । তবে পারভিনের বাড়িতে ছেলেকে আলাদা রেখে এক ঘরে রাত কাটায় শান্তা ও পারভিন। সে কথা ছেলের কাছেই শুনেছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের সম্পর্কে ছেলে বাধা হচ্ছিল। তাই কুমাতা হয়েই শান্তা নিজের ছেলেকে খুনের পরিকল্পনা করেন শান্তা। রীতিমতো ছক কষে এগিয়েছিলেন তাঁরা। পুলিশকর্তাদের দাবি, শান্তা আর ইফফাত দিনে অনেকবার ফোনে গল্প করতেন। কিন্তু ঘটনার দু'দিন আগে থেকে আর ফোনে যোগাযোগ করেনি। মোবাইলের কল রেকর্ড দেখে পুলিশের সন্দেহ হতে পারে এটা ধরে নিয়েই সতর্ক হয়েছিল। যারা দিনে কুড়িবার ফোন করে, তাদের ফোন দু দিন বন্ধ কেন! তার মানে তারা জানত ঘটনার পর পুলিশ ফোনের সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। দু-দিন কোনও যোগাযোগ নেই এটা প্রমাণ করতেই ফোনালাপ বন্ধ রাখেন তাঁরা। ঘটনার দিনও বেলা তিনটের সময় ইফফাতের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ছিল ওয়াটগঞ্জ। আবার রাত সারে আটটায় সেই একই লোকেশনে ছিল। মাঝে ফোন বন্ধ ছিল। সন্ধে ছ'টা থেকে সারে ছ'টা নাগাদ শিশুকে খুন করা হয়। তার মিনিট পনেরো আগে শান্তা ও ইরফাতের কথা হয় তার সূত্র পেয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ কর্তারা বলেন, "শান্তা তার বান্ধবীর প্রতি এতটাই আসক্ত যে তার সন্তান খুনে অভিযুক্ত হলেও বান্ধবীর পক্ষেই দাঁড়ান। আবার নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন।" ছেলের মৃত্যুতে কোনও অনুশোচনা নেই শান্তার। পুলিশ জানিয়েছে, জেলেও পরস্পর কথা বলার জন্য উতলা হয়ে উঠেছে। তাঁদের শরীরী ভাষাতে কোনও অপরাধবোধই নেই। শান্তার স্বামী পঙ্কজ শর্মা অবশ্য দুই অভিযুক্তের ফাঁসির সাজা চাইছেন।