বুধবার পৌনে এগারোটা নাগাদ এসআইআর এর ফর্ম বিলি করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পরে গিয়েছিলেন বিএলও তপতি বিশ্বাস।হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক জানান,সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে।

শেষ আপডেট: 21 November 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: এসআইআর এর কাজ চলাকালীন সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছিল কোন্নগরের তপতি বিশ্বাসের। কোন্নগর মাতৃ সদনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে বিএলওর কাজ থেকে অব্যহতিও দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে এমআরআই করানোর জন্য তাঁকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপরে আবারও তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয় মাতৃ সদনে। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে।
তপতির স্বামী প্রবীর বিশ্বাস বলেন, "মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এমআরআই এ ধরা পরে। মাতৃসদনে স্নায়ু রোগ বিশেষজ্ঞ নেই। তাই চিকিৎসকরা জানান, বড় কোনও হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক এসেছিলেন প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরাই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।"
বুধবার পৌনে এগারোটা নাগাদ এসআইআর এর ফর্ম বিলি করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পরে গিয়েছিলেন বিএলও তপতি বিশ্বাস।হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক জানান,সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে। দেহের বাঁদিক অবশ হয়ে যায় বলেও জানা গেছে। তারপর থেকেই কোন্নগর পুরসভার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
উত্তরপাড়া বিধানসভার ২৭৯ নম্বর বুথ কোন্নগর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএলও র দায়িত্ব পালন করছিলেন কোন্নগর নবগ্রামের বাসিন্দা বছর ষাটের তপতি বিশ্বাস। তিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তাঁর স্বামী প্রবীর বিশ্বাস অভিযোগ করেছিলেন, এসআইআর এর ফর্ম বিলি, আবার ফেরত নেওয়া, কিউআর কোড স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছিলেন তপতি। প্রায় সারা রাত ঘুম হচ্ছিল না তাঁর। ঘন ঘন ফোন আসছিল, ফর্ম জমা করার জন্য। তিনি বলেন, "ওর শরীর খারাপ ছিল, তাই বলেছিলাম বিএলও না হতে। না করলে বলল চাকরি থাকবে না।মানসিক চাপ নিয়েও কাজ করছিল।"
প্রবীর-তপতির এক মেয়ে আছেন। তিনি স্বল্প বেতনে একটি চাকরি করেন। প্রবীরবাবু শ্রীরামপুর হেস্টিংস জুটমিলের শ্রমিক ছিলেন। বর্তমানে অবসর নিয়েছেন। তাই স্ত্রীর চাকরিই গোটা পরিবারের ভরসা। বৃহস্পতিবার কোন্নগর মাতৃসদন হাসপাতালে তাঁকে দেখতে আসেন শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসক শম্ভু্দীপ সরকার। উত্তরপাড়া থানার পুলিশ আধিকারিকরাও এসে তপতিদেবী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।