প্রতিবেশীর বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধেবেলা পুনিতা তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর বেডরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। পুনিতার দাবি ছিল, তিনি এবং তাঁর কন্যা তানিশা ঘরের ভিতর আটকে পড়েছেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 January 2026 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরশুনায় (Sarsuna) একটি বন্ধ ঘর থেকে যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে (Dead Body Found) কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মৃতের নাম সানি সিং, বয়স ৩৪ বছর। এই মৃত্যুকে ঘিরে সরাসরি খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী পুনিতা সিং এবং শ্যালক রাকেশ পাসোয়ানের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযুক্ত স্ত্রীর দাবি, সানি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধেয় থানায় ফোন আসে যে সরশুনার একটি বাড়িতে এক যুবক গলায় ফাঁস (Sarsuna Incident) দিয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সানির নিথর দেহ নিয়ে বসে রয়েছেন স্ত্রী পুনিতা। বেশ কয়েকজন প্রতিবেশীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রতিবেশীর বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধেবেলা পুনিতা তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর বেডরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। পুনিতার দাবি ছিল, তিনি এবং তাঁর কন্যা তানিশা ঘরের ভিতর আটকে পড়েছেন। বিষয়টি জানার পর কল্লোল আশপাশের বাসিন্দাদের খবর দেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় পুনিতা বেডরুম লাগোয়া বারান্দা দিয়ে নীচে নামেন।
এর পরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মূল দরজার সামনে যান। সেখানে দেখা যায়, কাঠের দরজাটি অর্ধেক খোলা। পুনিতার অভিযোগ, স্বামী সানি ঝগড়ার সময় ওই কাঠের দরজার লক ভেঙে ফেলেছিলেন। নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে লোহার গেট খুলে তাঁরা ঘরের ভিতরে ঢোকেন। তখনই দেখা যায়, ঘরের ভিতরে ওড়নার ফাঁস গলায় দিয়ে ঝুলছেন সানি।
এই দৃশ্য দেখার পরই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় সানির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। যে ওড়নাটি ফাঁস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সানিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, সানির মৃত্যু হয়েছে গলায় ফাঁস লাগার কারণে। রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, ফাঁস লাগানোর সময় তিনি জীবিত ছিলেন। এদিকে, সানির বোন সঙ্গীতা শাউ পুনিতা সিং এবং রাকেশ পাসোয়ানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে দাম্পত্য অশান্তির বিষয়টিও। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বরে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন পুনিতা। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝামেলা হয়। পুনিতার অভিযোগ, সেদিন সানি তাঁকে এবং তাঁদের মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা আবার বাড়িতে ফিরতে পারেন।