‘দাগি বা চিহ্নিত অযোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতেই হবে। এসএসসি-র (SSC) নতুন বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সোমবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)।

'এতবড় দুর্নীতির অভিযোগ, তারপরেও এটা বলবেন?' কমিশনে অসন্তুষ্ট হাইকোর্টের বিচারপতি
শেষ আপডেট: 7 July 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দাগি বা চিহ্নিত অযোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতেই হবে। এসএসসি-র (SSC) নতুন বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সোমবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, কোনও ‘দাগি বা চিহ্নিত অযোগ্য’ প্রার্থী যদি ইতিমধ্যেই আবেদন করে থাকেন, সেই আবেদনপত্রও বাতিল করতে হবে। শুধু তাই নয়, স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত ৩০ মে এসএসসি যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে একসঙ্গে ৯টি মামলা হয়। সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। শুনানির শুরু থেকেই এদিন রাখঢাক না রেখে চিহ্নিত অযোগ্যদের পাশেই দাঁড়ায় রাজ্য ও এসএসসি।
কমিশনের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, “সুপ্রিম কোর্ট কোথাও বলেনি যে চিহ্নিত অযোগ্যরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না।” বোঝাতে চান, যদি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অযোগ্যরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ না নিতে পারেন, তাহলে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ব্যর্থ চাকরিপ্রার্থীরাও অংশ নিতে পারবেন না।
এ কথা শুনেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। জানান, “কমিশনের কাছ থেকে এই ব্যাখ্যা অপ্রত্যাশিত।” অযোগ্য বলে যাঁরা চিহ্নিত হননি তাঁদের চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করার সুযোগ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কল্যাণের বক্তব্য, নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অযোগ্যদের গোটা প্রক্রিয়া থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, এমনটা নয়। বিচারপতি পাল্টা বলেন, “এতবড় দুর্নীতির অভিযোগ! টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। তারপরেও এটা বলবেন?”
এরপরই হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে গত ৩০ মে যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল এসএসসি, তাকে সামনে রেখেই নিয়োগপ্রক্রিয়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তির বাকি অংশে আদালত হস্তক্ষেপ করেনি।