স্কুলব্যাগের ভার, বসার ভুল ভঙ্গি আর স্ক্রিনের আসক্তি— এই তিনেই বাড়ছে ছোটদের মেরুদণ্ডের সমস্যা। জানালেন ফর্টিস আনন্দপুরের নিউরোলজির ডিরেক্টর ড. অমিত হালদার।

ডক্টর অমিত হালদার।
শেষ আপডেট: 16 October 2025 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মেরুদণ্ডের সমস্যার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হল ভারী স্কুলব্যাগ বওয়ার অভ্যেস। আজ, ১৬ অক্টোবর ‘বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবসে’ শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির যত্নের কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়ে এই কথা বললেন ফর্টিস আনন্দপুর হাসপাতালের নিউরোলজির ডিরেক্টর ড. অমিত হালদার।
তাঁর মতে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগ নিয়ে যাওয়া শিশুর মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক চাপ ফেলে। ভারী ব্যাগ তোলার সময় শিশু সামনে ঝুঁকে পড়ে, ফলে তাদের শরীরের স্বাভাবিক ভারকেন্দ্র বদলে যায়। এর ফলে সঠিক ভঙ্গি নষ্ট হয়, পিঠ ও ঘাড়ের মাংসপেশিতে টান পড়ে, এবং দীর্ঘমেয়াদে তা মেরুদণ্ডের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
ড. হালদার বলেন, “শিশুর স্কুলব্যাগের ওজন তার শরীরের ওজনের ১০–১৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।” উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ৩০ কেজি ওজনের একটি শিশুর ব্যাগের ওজন ৪.৫ কেজির বেশি হওয়া উচিত নয়।

তবে শুধু ব্যাগের ভার নয়, আজকের ডিজিটাল জীবনের আরেক বড় বিপদ হল, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং ভুল ভঙ্গিতে স্ক্রিন ব্যবহার করা। পড়াশোনা, গেম খেলা বা মোবাইলে সময় কাটানো— সবেতেই শিশুদের মধ্যে ভুলভাবে বসার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ই তারা কোনও রকম আর্গোনমিক (সঠিক দেহভঙ্গি-সহায়ক) সাপোর্ট ছাড়াই বসে থাকে, যা ধীরে ধীরে মেরুদণ্ডের গঠন ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
ড. হালদার সতর্ক করেন— এই ধরনের অভ্যাসে শিশুরা অনেক সময় কাইফোস্কোলিওসিস (kyphoscoliosis) নামের মেরুদণ্ড বিকৃতি বা বক্রতা তৈরি করে ফেলে, যা প্রথমে বোঝা যায় না। পরে যখন শরীরের ভঙ্গিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে বা ব্যথা স্থায়ী হয়, ততদিনে অবস্থা জটিল হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “এক জায়গায় বসে থাকা শরীরের শত্রু। নিয়মিত নড়াচড়া, স্ট্রেচিং, আর সঠিক ভঙ্গির সচেতনতা— এই তিনটিই শিশুদের মেরুদণ্ডকে সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি।”
যদি কোনও শিশুর পিঠ বা ঘাড়ে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, বিশেষত যদি সেই ব্যথা হাত বা পায়ে ছড়িয়ে যায়, বা মেরুদণ্ডে বাঁক দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডাক্তারবাবুর কথায়, “সময়ে চিকিৎসা শুরু করা মানে স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো। যত তাড়াতাড়ি সমস্যা ধরা যায়, তত সহজে শিশুর মেরুদণ্ডকে সুস্থ রাখা সম্ভব।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই প্রয়োজন অভিভাবক, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের একত্র উদ্যোগ। ছোটদের ব্যাগের ওজন কমানো, স্কুলে সঠিক আসন ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা, এবং পড়ার মাঝেমাঝে শরীরচর্চা বা স্ট্রেচিং শেখানো—এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই আগামী প্রজন্মের মেরুদণ্ডকে সুস্থ রাখতে পারে।