৪০ পেরিয়ে মা হওয়া কি নিরাপদ? ৪২-এর ক্যাটরিনা থেকে ৪১-এর ভারতী, দেরিতে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কতটা ঝুঁকি, কতটা সতর্কতা প্রয়োজন, জানুন চিকিৎসকের মতামত।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস (দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 15 October 2025 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা হওয়া নিয়ে নাক সিটকানোর শেষ নেই। কে কবে কখন মা হচ্ছেন, কে হচ্ছেন না, কার বুড়ো বয়সে বাচ্চা হল, চর্চার শেষ নেই। আজকাল অনেকেই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বা একটা বয়সে পৌঁছনোর পর মা হতে চান। কেউ কেউ ৪০-এও হন। সম্প্রতি ক্যাটরিনা কইফ বা ভারতী সিংয়ের খবর তো তাই বলছে। তাঁরা মা হচ্ছেন, ভারতী তো দ্বিতীয়বার। এমন অনেক উদাহরণ আমার আপনার আশপাশেও রয়েছে। বাবা-মায়েদের জেনারেশন হয়তো বলবে, 'ওদের টাকা আছে, তাই চাপ নেই।' আবার কেউ বলতে পারেন, 'মনের জোর, ইচ্ছে আর সুস্থ জীবনই সব।' এসব নিয়ে চর্চা চলবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় খুচরো গল্পকথা শোনা যাবে কিন্তু আসল হল চিকিৎসকেরা কী বলছেন।
৪০-এ প্রেগনেন্সি সম্ভব না অসম্ভব, জানতে দ্য ওয়াল যোগাযোগ করেছিল স্ত্রী রোগ ও অবস্টেট্রিকস বিশেষজ্ঞ ডক্টর ধ্রুবা রায়ের সঙ্গে। তিনি সমস্ত বিষয়টি নিয়ে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সকলকে অভয় এবং সুস্থ জীবনযাপনের পরামর্শ দেন। ডাক্তারি ভাষায় একটু বেশি বয়সে মা হতে গেলে ঠিক কী কী বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, কোন বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়া মোটেও চলবে না আর কোন বিষয়ে লোকের কথায় কান দিলে চলবে না, তা বিশ্লেষণ করলেন চিকিৎসক।
আগে লোকে বলত কুড়িতেই বুড়ি। সেসব প্রবাদের আজকাল আর কোনও মেয়ে তোয়াক্কা করে না। নিজের জীবন নিজের মতো সাজায় ও বাঁচে। আগে ৩৫ বছর হল মানেই বলা হত মা হওয়ার জন্য বেশি বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু এখন তো সেসব অতীত। ৪০-এ মা হচ্ছেন কত লোক। এটা কি ভয়ের? আদৌ কি এই বয়সে মা হওয়া সম্ভব! চিকিৎসক ধ্রুবার সরাসরি বক্তব্য, মা হওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা হয় না। সমস্যাটা হয়, মা ও বাচ্চার অবস্ট্রেটিক কমপ্লিকেশন নিয়ে। মায়ের বয়স বেশি হলে এই সমস্যা উভয়ের ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তিনি স্পষ্ট করেন, অবস্ট্রেটিক কমপ্লিকেশন যেকোনও বয়সেই হতে পারে কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাবনা বাড়ে।
উদাহরণ হিসেবে মায়েদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশন হওয়ার সম্ভাবনা, ব্লিডিং হওয়ায় সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে জানান তিনি। অ্যান্টি পার্টম হেমারেজ বা অ্যাক্সিডেন্টাল হেমারেজ হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যায় অনেকের ক্ষেত্রে। হতে পারে আরও অন্যান্য সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, তিনি হেলদি, কোনও শারীরিক সমস্যা নেই কিন্তু তারও এমন হতে পারে। নর্ম্যাল ডেলিভারির বদলে সিজারের প্রবণতা বেড়ে যায়। ডেলিভারির পর ব্লিডিংয়ের সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরের মিসক্যারেজের উদাহরণ এক্ষেত্রে টানেন চিকিৎসক। সেনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হলেও ইন্টারনাল সমস্যা হয়েছিল, তা আবারও উল্লেখ করেন তিনি। এমন সকলের ক্ষেত্রেই হতে পারে। কেউ ব্যতিক্রম নয়।
মাকে ছেড়ে বাচ্চার দিকে দেখলে, তার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কী কী হতে পারে? ডঃ ধ্রুবা জানান, জেনেটিক অ্যাবনর্ম্যালিটি হতে পারে, তার কারণ, মহিলার যা বয়স ডিম্বাণুর বয়সও তাই। এক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের অ্যাবনর্ম্যালিটি থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই অ্যাবনর্মাল ভ্রুণ তৈরি হলে মিসক্যারেজের প্রবণতা থাকে, তা না হলে বিভিন্ন ক্রোমোজোমে অ্যাবনর্ম্যালিটি দেখা দেয়। আজকাল ক্রোমোজোম ১৩, ১৮ বা ২১ টেস্ট করে দেখা হয় সবটা, ডাউটফুল দেখা গেলে টেস্ট আরও কিছু করে দেখা হয়। সমস্যা হতে পারে ফিটাসের।
কারও এমন সন্দেহ হলে কী কী টেস্ট করতে পারেন? চিকিৎসকের কথায়, 'এনআইপিটি টেস্ট করে দেখা হয়, মায়ের ব্লাডে ফিটাল ডিএনএ থাকে, সেটা টেস্ট করে দেখা হয় সব ঠিক আছে কি না, বাচ্চা সুস্থ কি না। এই জেনেটিক কাউন্সেলিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিটাল গ্রোথ রেস্ট্রিকশন হতে পারে, ফিটাল ডেথও হতে পারে, নিওনেটাল মর্বিডিটি যেমন শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি, জন্মগত ডিফেক্টের সম্ভাবনা ১০ গুণ মতো বেড়ে যায়। কারণ, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ভেসেলে ব্লাড ফ্লো কমে আসে, রিডিজ হয়ে যায়, ইউট্রাসেও রক্তের সঞ্চার কম হয়, এর কারণে এই সব সমস্যা হয়।'
৪০-এ কি তবে মা হওয়া যাবে না? উত্তরে ডঃ রায়ের একটাই কথা, যাবে। ঝুঁকি থাকবে, চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। চিকিৎসকের কথা মেনে চলতে হবে। সর্বোপরি লাইফস্টাইল মেইনটেন করা, হেলদি ফুড খাওয়া, এখন থেকেই করতে হবে। ৪০ এর বেশি বয়সে প্রেগনেন্সি সম্ভব, রিস্ক-সহ। জেনেটিক প্রবেলটা রুল আউট করলে আর কোনও সমস্যা নেই। আগে থেকে যেহেতু টেস্ট করা যায় আজকাল, বোঝা যায় সবটা, তাই টেনশন থাকার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই কম।