কী এই সমস্যা? এটা কি খুবই মারাত্মক? এতে কি আদৌ চিকিৎসকের গাফিলতি ছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল স্ত্রী রোগ ও অবস্টেট্রিকস বিশেষজ্ঞ ডক্টর ধ্রুবা রায়ের সঙ্গে।

স্ত্রী রোগ ও অবস্টেট্রিকস বিশেষজ্ঞ ডক্টর ধ্রুবা রায়।
শেষ আপডেট: 26 August 2025 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রসবের আগেই কোল খালি হয়েছে ইনফ্লুয়েন্সার সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের। অন্তঃসত্ত্বাকালীন প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উদযাপন করেছেন হাসিমুখে। বেবি বাম্প ফোটোশুট থেকে সাধভক্ষণ, সবকিছুই ভাগ করে নিয়েছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। কিন্তু সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায় শুক্রবার। সন্তানকে কোলে নেওয়ার আগেই শূন্য হয়ে যায় কোল। জানা যায়, প্রসবের আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর সন্তানের। দোষ গিয়ে পড়ে ডাক্তারের উপর।
শুক্রবার রাত থেকে দোষ-গুণের হিসাব কষার পর শনিবার সন্ধে থেকে শুরু হয় ডাক্তারের প্রতি নেটিজেনদের কটূক্তি। সবশেষে মুখ খোলেন ডাঃ শিবেন্দ্রনাথ দাস বা এসএন দাস। তাঁর তত্ত্বাবধানেই ছিলেন সোহিনী। উঠে আসে সোহিনীর শারীরিক সমস্যার দিক। জানা গেছে, 'কনসিলড অ্যাক্সিডেন্টাল হেমারেজে' মৃত্যু হয়েছে তাঁর সন্তানের।
কী এই সমস্যা? এটা কি খুবই মারাত্মক? এতে কি আদৌ চিকিৎসকের গাফিলতি ছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল স্ত্রী-রোগ ও অবস্টেট্রিকস বিশেষজ্ঞ ডক্টর ধ্রুবা রায়ের সঙ্গে। তিনি প্রথমেই যে বিষয়গুলি জানান, তার সারমর্ম হল, এই সমস্যা বিরল নয়, ২০০-র মধ্যে একজনের হতে পারে। এটা দু'রকম হয় একটা কনসিলড, আরেকটা রিভিলড। কনসিলডের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ ভিতরে হয় বাইরে থেকে বোঝা যায় না, রিভিলডের ক্ষেত্রে বোঝা যায় বাইরে থেকে। এক্ষেত্রে পেটে ব্যথা বতে পারে, বাচ্চার নড়চড়া কমে যেতে পারে।
কী কারণে হয় এই সমস্যা?
ডাক্তারের কথায়, অনেক কারণে হতে পারে-
কেন হয়?
প্রেগনেন্ট মায়েরা যদি হাইপারটেনসিভ হন এবং বাচ্চার ওজন কম থাকে, তাঁদের খুবই সতর্ক হতে হয়।অনেক সময় ইউট্রাসের ভেসেল স্প্যাসম হয়ে যায়, রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রক্ত জমতে থাকে। প্লাসেন্টা সেপারেট হয়ে যায়। 'কুভেলিয়ার ইউট্রাস' হতে পারে। এক্ষেত্রে বাচ্চার শুধু নয়, মায়েরও একাধিক শারীরিক সমস্যা হতে পারে। যেমন -
এই সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত একজন অন্তঃসত্ত্বার? ডাঃ ধ্রুবা জানান,
ডাক্তারের স্পষ্ট বক্তব্য, 'অ্যাক্সিডেন্টাল হেমারেজে একদমই অপেক্ষা করা যায় না। এক্ষেত্রে যেটা দেখলাম, ডাক্তারবাবুর কাছে যখন গেছে তখন ইতিমধ্যেই ফিটাল ডেথ হয়ে গেছে। ওই সময় সিজার করলেও কোনও লাভ হত না।
সোহিনীর ক্ষেত্রে কি তাহলে ডাক্তারের গাফিলতি ছিল? প্রশ্নের উত্তর ধ্রুবা বলেন, 'আমার মনে হয়, চিকিৎসা যথাযথই করা হয়েছে। বরং ঝুঁকি নিয়ে সিজার না করলে বাড়াবাড়ি হতে পারত। ডায়ালিসিস পর্যন্ত লাগতে পারত।'
কারও এমন হলে সুস্থ হওয়ার পর ব্লাডের কিছু টেস্ট পরে করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। যেমন -
অতএব, গর্ভাবস্থায় কারও কোনও সমস্যা হলেই খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কারণ এসময়ে অনেক বদল আসে, যা খুব সাধারণ নয়। শরীরের সমস্ত কিছু বদলে যায়। তাই সতর্ক হোন, সুস্থ থাকুন।