Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

পেটের ভিতর রক্তপাতে কোল খালি সোহিনীর, কেন হয় এই সমস্যা, আদৌ কি কারও গাফিলতি ছিল?

কী এই সমস্যা? এটা কি খুবই মারাত্মক? এতে কি আদৌ চিকিৎসকের গাফিলতি ছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল স্ত্রী রোগ ও অবস্টেট্রিকস বিশেষজ্ঞ ডক্টর ধ্রুবা রায়ের সঙ্গে।

পেটের ভিতর রক্তপাতে কোল খালি সোহিনীর, কেন হয় এই সমস্যা, আদৌ কি কারও গাফিলতি ছিল?

স্ত্রী রোগ ও অবস্টেট্রিকস বিশেষজ্ঞ ডক্টর ধ্রুবা রায়।

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 26 August 2025 20:36

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রসবের আগেই কোল খালি হয়েছে ইনফ্লুয়েন্সার সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের। অন্তঃসত্ত্বাকালীন প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উদযাপন করেছেন হাসিমুখে। বেবি বাম্প ফোটোশুট থেকে সাধভক্ষণ, সবকিছুই ভাগ করে নিয়েছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। কিন্তু সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায় শুক্রবার। সন্তানকে কোলে নেওয়ার আগেই শূন্য হয়ে যায় কোল। জানা যায়, প্রসবের আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর সন্তানের। দোষ গিয়ে পড়ে ডাক্তারের উপর।

শুক্রবার রাত থেকে দোষ-গুণের হিসাব কষার পর শনিবার সন্ধে থেকে শুরু হয় ডাক্তারের প্রতি নেটিজেনদের কটূক্তি। সবশেষে মুখ খোলেন ডাঃ শিবেন্দ্রনাথ দাস বা এসএন দাস। তাঁর তত্ত্বাবধানেই ছিলেন সোহিনী। উঠে আসে সোহিনীর শারীরিক সমস্যার দিক। জানা গেছে, 'কনসিলড অ্যাক্সিডেন্টাল হেমারেজে' মৃত্যু হয়েছে তাঁর সন্তানের।

কী এই সমস্যা? এটা কি খুবই মারাত্মক? এতে কি আদৌ চিকিৎসকের গাফিলতি ছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল স্ত্রী-রোগ ও অবস্টেট্রিকস বিশেষজ্ঞ ডক্টর ধ্রুবা রায়ের সঙ্গে। তিনি প্রথমেই যে বিষয়গুলি জানান, তার সারমর্ম হল, এই সমস্যা বিরল নয়, ২০০-র মধ্যে একজনের হতে পারে। এটা দু'রকম হয় একটা কনসিলড, আরেকটা রিভিলড। কনসিলডের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ ভিতরে হয় বাইরে থেকে বোঝা যায় না, রিভিলডের ক্ষেত্রে বোঝা যায় বাইরে থেকে। এক্ষেত্রে পেটে ব্যথা বতে পারে, বাচ্চার নড়চড়া কমে যেতে পারে।

কী কারণে হয় এই সমস্যা?

ডাক্তারের কথায়, অনেক কারণে হতে পারে-

  • হাইপারটেনশন থাকলে
  • প্রিঅ্যাক্লামশিয়া থাকলে
  • হঠাৎ কোনও ট্রমা হলে 
  • অপুষ্টিজনিত কোনও সমস্যা হলে 
  • বাইরে থেকে ভয় বা আঘাত পেলে মানসিকভাবে
  • অ্যানিমিয়া হলে
  • স্মোকিং হ্যাবিট থাকলে 
  • কোকেন আসক্ত হলে 
  • প্রোটিনের সমস্যা-সহ এমন অনেক সমস্যা হলে হয়। 
  • অ্যাক্সিডেন্টের জন্য হতে পারে
  • কর্ড ছোট হলে হয়। টান পড়তে পারে সেক্ষেত্রে হয়। 
  • আর অন্যতম বড় হল মায়ের বয়স, ৩৫ পেরিয়ে গেলে এই অ্যাক্সিডেন্টাল হেমারেজ হওয়ার চান্স বেড়ে যায়।

কেন হয়?

 প্রেগনেন্ট মায়েরা যদি হাইপারটেনসিভ হন এবং বাচ্চার ওজন কম থাকে, তাঁদের খুবই সতর্ক হতে হয়।অনেক সময় ইউট্রাসের ভেসেল স্প্যাসম হয়ে যায়, রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রক্ত জমতে থাকে। প্লাসেন্টা সেপারেট হয়ে যায়। 'কুভেলিয়ার ইউট্রাস' হতে পারে। এক্ষেত্রে বাচ্চার শুধু নয়, মায়েরও একাধিক শারীরিক সমস্যা হতে পারে। যেমন -

  • রেনাল ফেলিওর
  • হেপাটিক ডিসঅর্ডার 
  • অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ 
  • এমনকি ২ থেকে ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে মায়ের। 

এই সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত একজন অন্তঃসত্ত্বার? ডাঃ ধ্রুবা জানান,

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
  • বিশ্রাম নিতে হবে
  • সতর্ক থাকতে হবে
  • অতিরিক্ত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা যাবে না
  • লাফালাফি করা যাবে না 
  • ডায়েট ঠিক করতে হবে
  • স্মোকিং করলে সেটা বন্ধ করতে হবে
  • প্রেগনেন্সিতে হঠাৎ করে নতুন কোনও ব্যায়াম করা ঠিক হবে না
  • আর বাচ্চার নড়াচড়ার দিকে খুবই নজর দিকে হবে, একটু এদিক ওদিক হলেই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
  • এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ব্লাডটা যেহেতু বাচ্চা পর্যন্ত পৌঁছয় না তাই বাচ্চা অক্সিজেন পায় না। শ্বাস নিতে পারে না। ফলে মৃত্যু হয়।
  • এই নড়াচড়া কমলেই হাসপাতালে যেতে হবে। পেটে কোনও অস্বস্তি বা ব্যথা হলেও তাই। ওষুধপত্র নিয়ম মেনে খেতেই হবে এই সময়।

ডাক্তারের স্পষ্ট বক্তব্য, 'অ্যাক্সিডেন্টাল হেমারেজে একদমই অপেক্ষা করা যায় না। এক্ষেত্রে যেটা দেখলাম, ডাক্তারবাবুর কাছে যখন গেছে তখন ইতিমধ্যেই ফিটাল ডেথ হয়ে গেছে। ওই সময় সিজার করলেও কোনও লাভ হত না। 

সোহিনীর ক্ষেত্রে কি তাহলে ডাক্তারের গাফিলতি ছিল? প্রশ্নের উত্তর ধ্রুবা বলেন, 'আমার মনে হয়, চিকিৎসা যথাযথই করা হয়েছে। বরং ঝুঁকি নিয়ে সিজার না করলে বাড়াবাড়ি হতে পারত। ডায়ালিসিস পর্যন্ত লাগতে পারত।'

কারও এমন হলে সুস্থ হওয়ার পর ব্লাডের কিছু টেস্ট পরে করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। যেমন -

  • ব্লাডের হোমোসিস্টিন লেভেল
  • প্রোটিন সি ও এস লেভেল
  • ফ্যাক্টর ফাইভ লেইডেন (পরিবারের কারও হিস্ট্রি থাকলে সমস্যা হতে পারে)।

অতএব, গর্ভাবস্থায় কারও কোনও সমস্যা হলেই খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কারণ এসময়ে অনেক বদল আসে, যা খুব সাধারণ নয়। শরীরের সমস্ত কিছু বদলে যায়। তাই সতর্ক হোন, সুস্থ থাকুন।


```