জরুরি বিভাগে ডিউটিতে ছিলেন ওই ইন্টার্ন। পুলিশ এক অসুস্থ মদ্যপ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। চিকিৎসকের অভিযোগ, রোগীটি শুরু থেকেই অসভ্য আচরণ করা শুরু করেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 09:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে (Govt Hospital) মহিলা চিকিৎসককে (Woman Doctor) হেনস্থার অভিযোগ উঠল। এবার ঘটনাস্থল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (Calcutta National Medical College)। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের (Intern Doctor) বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ উঠেছে এক মদ্যপ রোগীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে।
ঘটনা মঙ্গলবার রাতের। জরুরি বিভাগে ডিউটিতে ছিলেন ওই ইন্টার্ন। পুলিশ এক অসুস্থ মদ্যপ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। চিকিৎসকের অভিযোগ, রোগীটি শুরু থেকেই অসভ্য আচরণ করা শুরু করেন। অশালীন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি, এমনকী ভয় দেখানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেন। পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইন্টার্নটি বাইরে বেরিয়ে আসেন।
অভিযোগ, সে সময় তিনি উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের কাছে সাহায্য চাইলেও সাড়া মেলেনি। পরে খবর পেয়ে অন্যান্য ছাত্রছাত্রী ও চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ জানান। বুধবার সকালে কলেজে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পড়ুয়ারা অধ্যক্ষের দফতর ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পুলিশ জানিয়েছে, রাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হবে।
এ ঘটনা সামনে আসতেই মনে পড়ছে কয়েক দিন আগের এসএসকেএম হাসপাতালের (SSKM Hospital) শ্লীলতাহানির ঘটনা। সেখানে এক নাবালিকাকে পুরুষ শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ধৃত হন এক বহিরাগত। সেই ঘটনার পরই রাজ্যজুড়ে সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল।
ঘটনার পর শনিবার জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শহর ও জেলার সরকারি হাসপাতালের শীর্ষ কর্তারা এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি। সেখানেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁত তুলে কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশঙ্কা, স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানেই বারবার এমন ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিকভাবে তাঁর সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।
এসএসকেএম-এর ঘটনায় অভিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মী অমিত মল্লিককে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখারা নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অমিত মল্লিক আগে এসএসকেএম হাসপাতালেরই একটি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে এসেছিল ওই নাবালিকা। আউটডোরের টিকিট করাতে গিয়েছিল তার মা। দাদুর সঙ্গে বসেছিল মেয়েটি। অভিযোগ, নিজেকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে ট্রমা কেয়ারের শৌচাগারে মেয়েটিকে নিয়ে যায় অমিত মল্লিক। সেখানেই চলে নির্যাতন।
এই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে ফের সরকারি হাসপাতালে এমনই অভিযোগ। তাই বারবার একই ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন - সব নির্দেশনার পরও সরকারি হাসপাতালগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়াতে কতটা পদক্ষেপ করা হয়েছে? ডাক্তারি পড়ুয়াদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিক্ষোভ আরও জোরদার হবে।