এর আগে এই প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক দাবি করেছিলেন, অনেকের মতো মনোজিৎ-ও দলের সদস্য ছিল। বিশেষ কারণে তাঁকে তিনি চিনতেন এমন নয়। বরং ওর বাবাকে ডেকে সতর্ক করেছিলেন তিনি, এমনও জানান বিধায়ক।

অশোক দেব
শেষ আপডেট: 1 July 2025 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলেজের পরিবেশ যাতে সুস্থ-স্বাভাবিক হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার কসবা ল কলেজে (Kasba Law College) এসে এমনটাই জানালেন তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব (TMC MLA Ashok Deb)। ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় যে তিনজন মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হয়েছে তারা সকলেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা। এদের মধ্যে রয়েছে মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra) যার চাকরি পাওয়ার পিছনে অশোক দেবের হাত রয়েছে বলে দাবি। কিন্তু সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান বিধায়ক।
গত বুধবার কসবা ল কলেজে মনোজিৎ মিশ্র, জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায় মিলে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। মনোজিতের বিরুদ্ধে ২০১৩ সাল থেকে একাধিক অভিযোগ ছিল। কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিল সে। তাই সেই ব্যক্তি কীভাবে কলেজের কোনও পদে থাকে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই দাবি করেছে, তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেবের হাত রয়েছে এর পিছনে।
মঙ্গলবার কলেজে এসেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। সাংবাদিকরা তাঁকে ঘটনা সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, ''আমরা দোষীদের কড়া শাস্তি দেব। ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের বহিষ্কার করা হয়েছে। কলেজ যাতে সুস্থভাবে চলে সেই চেষ্টা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিকাশ ভবনে জানান হয়েছে।'' কিন্তু মনোজিৎকে তিনি চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন কিনা, এই প্রশ্ন এড়িয়ে যান অশোক দেব। কোনও উত্তর দেননি।
যদিও এর আগে এই প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক দাবি করেছিলেন, অনেকের মতো মনোজিৎ-ও দলের সদস্য ছিল। বিশেষ কারণে তাঁকে তিনি চিনতেন এমন নয়। বরং ওর বাবাকে ডেকে সতর্ক করেছিলেন তিনি, এমনও জানান বিধায়ক। তাঁর কথায়, মনোজিৎ খারাপ পথে যাচ্ছিলেন বলে খবর ছিল। সেই কারণে তার বাবাকে সাবধান করেছিলেন তিনি। মনোজিতের বাবা জানিয়েছিলেন, ছেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আদতে যে তা হয়নি তা প্রমাণ করে দেয় কসবার ঘটনা।
ইতিমধ্যে কলেজের অস্থায়ী কর্মী ও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তন নেতা এবং মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়ের স্টুডেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযুক্তদের কেউই আর ওই প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারবে না।