বিপ্লব দেব সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, এই রাজ্যে কোনও নারী সুরক্ষিত নয়। এমন অনেক ঘটনা ঘটে তাদের তো এফআইআর-ই দায়ের হয় না।

সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির অনুসন্ধান কমিটি
শেষ আপডেট: 30 June 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজের (Kasba Law College) গণধর্ষণের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে শহরে এসেছে বিজেপির অনুসন্ধান কমিটি (Fact Finding Team)। সোমবার কলকাতায় এসে প্রথমে লালবাজার এবং পরে ঘটনাস্থলে যায় ওই দল। পরে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া আক্রমণ করে বড় প্রশ্ন তোলে এই দল। কী বক্তব্য তাঁদের?
বিজেপি সাংসদ সত্যপাল সিংয়ের নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, মীনাক্ষী লেখী এবং রাজ্যসভার সাংসদ মননকুমার মিশ্র। সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁদের প্রশ্ন, এই ঘটনার যে মূল অভিযুক্ত তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৩ সাল থেকে লাগাতার অভিযোগ উঠে এসেছে। ৪-৫টি মামলা হয়েছে, গ্রেফতারও করা হয়েছিল তাঁকে। তাহলে সেই ব্যক্তি কীভাবে ল কলেজের কোনও পদে আসে? কে তাঁকে আনল, সেই প্রশ্নও তুলেছে এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।
বিপ্লব দেব সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, এই রাজ্যে কোনও নারী সুরক্ষিত নয়। এমন অনেক ঘটনা ঘটে তাদের তো এফআইআর-ই দায়ের হয় না। আর যেগুলি হয়, তাতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। লালবাজারে সিপি মনোজ ভার্মার সঙ্গে কী কথা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার দেওয়া হবে। যদি ফাঁসি দিতে হয়, তার জন্যও আবেদন করা হবে।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যে জানান হয়েছে, ঘটনার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এফআইআরে নাম থাকা তিনজন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত ও নির্যাতিতার মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা শেষ হয়েছে। স্পষ্ট জানান হয়েছে, দোষীরা যাতে কঠোরতম আইনি শাস্তি পায় তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর তাঁরা। একই সঙ্গে যাতে নির্যাতিতা দ্রুত বিচার পান, সেটাও নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আবার বিজেপির দল কসবার কলেজে গেলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 'রাত দখল মঞ্চ'র কয়েকজন পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে কলেজের পাশে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাঁদের দাবি ছিল, 'বিজেপির নৈতিক অধিকার নেই ধর্ষণের প্রতিবাদ করার।' হাথরাস থেকে উন্নাও, ওঠে একাধিক ধর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গও। যা উল্লেখ করে বিজেপির কেন ধর্ষণের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই, তা বুঝিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
পরে আরজি কর ঘটনার প্রতিবাদে রাত দখল কর্মসূচির উল্লেখ করে একাংশ দাবি করেন, আন্দোলন থিতিয়ে যাওয়ার পিছনে গেরুয়া শিবিরের হাত রয়েছে। এরপরই মেজাজ হারান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। যা পৌঁছয় হাতাহাতিতে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় ল'কলেজ চত্বরে।