রাজ্যের উচ্চ আদালতে মামলা করে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালত এই ইস্যুতে নিয়ম মেনে নির্দেশ দেয়নি। নিরাপত্তারক্ষীকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে মনেই করেনি নিম্ন আদালত!

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 October 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দারস্থ হলেন কসবা ল কলেজের (Kasba Law College) নির্যাতিতা। গণধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিলেন কলেজের নিরাপত্তারক্ষী (Security Guard)। তবে পরে তিনি জামিন (Bail) পান। সেই নির্দেশ খারিজের দাবিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
রাজ্যের উচ্চ আদালতে মামলা করে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালত এই ইস্যুতে নিয়ম মেনে নির্দেশ দেয়নি। নিরাপত্তারক্ষীকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে মনেই করেনি নিম্ন আদালত! এই মর্মেই জামিন খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে।
গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল ২৫ জুন। কসবায় সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়। মূল অভিযুক্ত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মনোজিৎ মিশ্র (৩১), যিনি তখন কলেজের অস্থায়ী কর্মীও ছিলেন। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তৃতীয় সেমিস্টারের দুই ছাত্র প্রমিত মুখোপাধ্যায় (২০) ও জাহিদ আহমেদ (১৯)।
পরদিন, অর্থাৎ ২৬ জুন তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের জেরায় উঠে আসে নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Pinaki Banerjee) নাম। দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় হেফাজতে থাকার পর অক্টোবর মাসেই জামিন পান তিনি।
পিনাকী মূলত খড়দার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে তিনি কসবায় ভাড়া থাকতেন। তদন্তে উঠে এসেছিল, ঘটনার দিন কলেজ ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন তিনি। অভিযোগকারিণীর দাবি, সাহায্য চেয়েও কোনও সহায়তা পাননি ওই নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে। উলটে, অভিযোগ ওঠে, তিনি নাকি অভিযুক্তদেরই সাহায্য করেছিলেন।
প্রশ্ন হচ্ছে কেন তিনি ঘটনার সময় বাধা দিলেন না? কেন কলেজ কর্তৃপক্ষকে কিছু জানালেন না? কলেজের ইউনিয়ন রুমে ‘হকি স্টিক’ কেন মজুত ছিল? তিনি কি সত্যিই ‘ম্যাঙ্গো’ মনোজিতের প্রভাবেই চুপ ছিলেন? এমন নানা প্রশ্নের মাঝেই তাঁর জামিন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এবার সেই নির্দেশ খারিজ চেয়ে হাইকোর্টে নির্যাতিতা।