গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বলছেন, নিয়োগে দেরির ফলে বহু প্রার্থীর চাকরির বয়স পার হয়ে গেছে। যাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তাঁদের জীবনের দায়িত্ব কি এড়িয়ে যেতে পারে সরকার? সেই প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 January 2026 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে। বছর ঘুরে বছর এসেছে, কিন্তু আলো আর দেখা যায়নি। আপার প্রাইমারি চাকরি প্রার্থীদের (Upper Primary Job Seekers) জীবনে শুধুই অপেক্ষা। ইন্টারভিউ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় কার্যত অন্ধকার ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার প্রার্থী (Upper Primary)। সেই কারণে বুধবার আবার তাঁরা রাস্তায় নামলেন (Upper Primary Job Seekers Protest)।
ইন্টারভিউয়ে বঞ্চিত আপার প্রাইমারি চাকরি প্রার্থীদের সংগঠন (আইবিইউপিসিপিবি) জানাচ্ছে, ২০১৬ সালের আপার প্রাইমারি গেজেট (Gazzet) অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁদের জীবনের অমূল্য ১১ বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এই সময়ের দায় কার - তার স্পষ্ট উত্তরও দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। ধর্মতলায় দণ্ডি কেটে, হামাগুড়ি দিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন তাঁরা।
২০২২ সালের ১৬ জুন থেকে কলকাতার শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার পাদদেশে টানা অবস্থান বিক্ষোভ (Sitting Protest) চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আজ সেই আন্দোলন পেরিয়েছে ১৩০০ দিনের গণ্ডি। দাবি একটাই - গেজেট মেনে ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগ।
প্রার্থীদের বক্তব্য, আপার প্রাইমারি গেজেট ২০১৬-এর নিয়ম ৮.৩(বি) অনুযায়ী ইন্টারভিউয়ের অন্তত ১৫ দিন আগে আপডেট ভ্যাকেন্সি প্রকাশ বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই আজ নিয়োগ আটকে আছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
আন্দোলনকারীদের মতে, এই নিয়োগ না হওয়ায় শুধুই চাকরি প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত (১:৩৫) বজায় না থাকায় আপার প্রাইমারি স্তরে (পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি) শিক্ষার গুণগত মান ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। বহু স্কুল কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।
আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বলছেন, নিয়োগে দেরির ফলে বহু প্রার্থীর চাকরির বয়স পার হয়ে গেছে। যাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তাঁদের জীবনের দায়িত্ব কি এড়িয়ে যেতে পারে সরকার? সেই প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
তাঁদের দাবি, উচ্চ আদালত ও সর্বোচ্চ আদালতের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই মামলার বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক হস্তক্ষেপেই এই দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান সম্ভব বলে আশা করছেন তাঁরা।