চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই দুটি বাঘিনীই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিল, এবং সম্ভবত সেই কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 September 2025 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিপুর চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoo) পরপর দু’দিনে দুটি বাঘিনীর মৃত্যু (Tigress Death) হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি (Investigation Team) গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই আলিপুর পশু হাসপাতালে মৃত বাঘিনী দুটির ময়নাতদন্ত (Postmortem) হবে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৩ জন পশু চিকিৎসককে নিয়ে একটি টিম বানানো হয়েছে যারা এই ময়নাতদন্ত করবেন। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি (Videography) করা হবে বলে সূত্রের খবর।
মৃত বাঘিনী দুটির মধ্যে একজনের নাম রূপা, যার বয়স হয়েছিল ২১ বছর, এবং অন্যজনের নাম পায়েল, যার বয়স ছিল ১৭। অরণ্য ভবন এবং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই দুটি বাঘিনীই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিল, এবং সম্ভবত সেই কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
এই ঘটনা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এবং বন্যপ্রাণী প্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাঘিনী দুটির পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনা একটি বড় ধাক্কা। তারা এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে বুধবার সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে সঙ্গীদের সামনেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গ্রাসে পড়েন এক যুবক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালিদাসপুরের বাসিন্দা ওই যুবককে সোমবার সকালে বাঘ টেনে নিয়ে যায় গভীর জঙ্গলের দিকে। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।
জানা গেছে, পেশায় মৎস্যজীবী চিরঞ্জিত দুই সঙ্গীকে নিয়ে নৌকায় করে গেছিলেন সুন্দরবনের খাঁড়িতে। বুড়িরডাবরির জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় নৌকা থামিয়ে তাঁরা কাঁকড়া ধরছিলেন। তিনজনেই জঙ্গলের দিকে পিঠ রেখে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই নীরবে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। মুহূর্তের মধ্যে নৌকায় উঠে চিরঞ্জিতের ঘাড়ে কামড়ে ধরে টেনে নিয়ে যায় গভীর বনে।
মঙ্গলবার রাতে গ্রামে ফিরে আসেন ওই দুই সঙ্গী। তাঁদের কাছ থেকে খবর পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন চিরঞ্জিতের পরিবার। গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
ঘটনার খবর পেয়ে বনদফতরের আধিকারিকরা রাতেই বুড়িরডাবরির জঙ্গলে তল্লাশি শুরু করেন। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ড্রোন এবং হ্যান্ডহেল্ড থার্মাল ক্যামেরা দিয়ে আরও তৎপর তল্লাশি।