পরিস্থিতি আরও জটিল হয় চিংড়িঘাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পুরো রাস্তায়। একের পর এক বাস, গাড়ি, অটো আটকে পড়ে দীর্ঘ লাইনে। অনেকেই সময় মতো অফিসে পৌঁছতে না পারায় সমস্যায় পড়েন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 January 2026 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই দিনে দু’টি বড় কর্মসূচি। তার জেরেই বুধবার কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। সকাল থেকেই যানজটের (Kolkata Tarffic Jam) চাপে নাজেহাল অবস্থায় পড়েন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অফিসযাত্রী ও নিত্যযাত্রীরা। একদিকে আশা কর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান (Asha Workers Swastha Bhavan Abhijan), অন্যদিকে শহিদ মিনার চত্বরে আইএসএফ-এর (ISF) কর্মসূচি - দু’য়ে মিলে শহরের যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
শহরের পূর্ব প্রান্ত থেকে মধ্য কলকাতা - প্রায় সর্বত্রই ছিল ভিড়ের চাপ। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ, নিউটাউন, এজেসি বোস রোড, এসএন ব্যানার্জি রোড, সব জায়গাতেই ধীরগতিতে চলেছে যানবাহন। সেক্টর ফাইভে ঢোকার মুখে নিকো পার্কের কাছে গাড়ির গতি হঠাৎ কমে যায়। ধীরে ধীরে সেই যানজট ছড়িয়ে পড়ে চিংড়িঘাটা পর্যন্ত। অফিসযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, সায়েন্স সিটির মোড়ে অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি সময় সিগন্যালেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় চিংড়িঘাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পুরো রাস্তায়। একের পর এক বাস, গাড়ি, অটো আটকে পড়ে দীর্ঘ লাইনে। অনেকেই সময় মতো অফিসে পৌঁছতে না পারায় সমস্যায় পড়েন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মাঝপথেই গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছন।
অন্যদিকে, মধ্য কলকাতার ধর্মতলা চত্বরেও ছিল ভিড়ের চাপ। শহিদ মিনারে আইএসএফ-এর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এজেসি বোস রোড ও এসএন ব্যানার্জি রোডে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কর্মসূচিতে যোগ দিতে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে বহু সমর্থক বাস ও ট্রাকে করে শহরে আসেন। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, সেই সব গাড়ির একাংশ সায়েন্স সিটি হয়ে ধর্মতলার দিকে যাওয়ায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে সায়েন্স সিটি মোড়, তপসিয়া এবং পার্ক সার্কাস এলাকাতেও।
একই সঙ্গে আশা কর্মীদের আন্দোলনের কারণেও একাধিক রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড বসানো হয়। ফলে বিকল্প পথেও চাপ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। যদিও ধাপে ধাপে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়, ততক্ষণে সকাল ও দুপুরের গুরুত্বপূর্ণ সময় কার্যত নষ্ট হয়ে যায় বহু মানুষের।
দু’টি কর্মসূচিই পূর্বঘোষিত হলেও, একই দিনে ও একই সময়ে তা পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায় বলে মত শহরবাসীর একাংশের। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে আরও পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে আন্দোলনের অধিকার বজায় থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত না হয়।