সিবিআই সূত্রে খবর, নতুন করে পাওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল ও দুই কাউন্সিলর-সহ আরও ১৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে চার্জশিটে। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের সংখ্যা ১৮।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 July 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় (Post Poll Violence) বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের (BJP Worker Abhijit Sarkar) খুনের ঘটনায় সিবিআই চার্জশিটে (CBI Chargesheet) তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল (Paresh Pal), কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার (Swapan Samaddar) এবং পাপিয়া ঘোষের (Papiya Ghosh) নাম রয়েছে। এবার তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) আগাম জামিনের আবেদন করলেন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক হিংসা। সেই সময় বেলেঘাটায় (Beleghata) খুন হন বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। ওই ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সিবিআই প্রথমে একটি চার্জশিট জমা দিলেও তদন্তে উঠে আসে আরও কিছু তথ্য। তার ভিত্তিতেই অতিরিক্ত চার্জশিট (সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট) জমা পড়ে আদালতে।
সিবিআই সূত্রে খবর, নতুন করে পাওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল ও দুই কাউন্সিলর-সহ আরও ১৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে চার্জশিটে। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের সংখ্যা ১৮। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করেছে। এদিকে যাঁদের নাম এই চার্জশিটে রয়েছে সেই বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষের আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাঁদের নাম জড়ানো হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করার ইচ্ছা থাকলেও, সিবিআই তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে।
১৬ তারিখ এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা কলকাতা হাইকোর্টে। সিবিআই ইতিমধ্যেই ওই তিন তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠিয়েছে। বিজেপি অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে এই খুনের ঘটনায় জড়িত শাসকদলের একাধিক নেতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এখনও তা বহাল। কিন্তু, অবশেষে সত্যি সামনে আসছে।
এই মামলারই গত শুনানিতে ব্যাঙ্কশাল আদালতে ভর্ৎসিত হয়ে সিবিআই। খুনের ঘটনার ৪ বছর পর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। এই প্রসঙ্গে আদালতের প্রশ্ন ছিল, ''৪ বছরে কাউকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছেন? কাউকে গ্রেফতার করতে হবে, প্রয়োজন মনে করেছিলেন?'' জবাবে সিবিআই-এর তরফে জানানো হয়, আগে যে অফিসার তদন্ত করছিলেন তিনি মনে করেননি কাউকে গ্রেফতার করতে হবে, কারণ তাঁরা সহযোগিতা করছিলেন।
এই বক্তব্য শুনে বিচারক ক্ষোভের সুরে বলেন, ''এটা কি মজা হচ্ছে? ৪ বছর পরে চার্জশিট দিয়েছেন! তার মানে এখনও ওয়ারেন্ট জারির প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন?'' এরপরই সিবিআই-কে চার্জশিটের কপির সঙ্গে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।