যেখানে অসংগতি, বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন তাঁরা। বলেই রেখে ছিলেন, যদি তাঁদের দাবি দাওয়া না মানা হয়, সেক্ষেত্রে তাঁরা আবারও আসবেন।

সিইও দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল
শেষ আপডেট: 30 December 2025 21:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের কথা বলতে, এসআইআর পর্বে (SIR West Bengal) মানুষের যাতে হয়রানি না হয়, কয়েকদিন ধরে সেই ইস্যুতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যাওয়া আসা করছে তৃণমূল। সোমবারও পাঁচজন প্রতিনিধি সিইও অফিসে (CEO West Bengal) গিয়েছিলেন। যেখানে অসংগতি, বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন তাঁরা। বলেই রেখে ছিলেন, যদি তাঁদের দাবি দাওয়া না মানা হয়, সেক্ষেত্রে তাঁরা আবারও আসবেন। কথা মতো মঙ্গলেও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) এবং ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর সঙ্গে দেখা করেন।
বয়স্কদের কেন হিয়ারিংয়ে (SIR Hearing) ডাকা হচ্ছে, কেন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি হচ্ছে না, কেন অসুস্থ, বিশেষভাবে সক্ষমদের সশরীরে হাজিরা দিতে হবে, সেই নিয়ে এদিনও ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik), শশী পাঁজারা (Shashi Panja) সিইওর কাছে সদুত্তর চাইতে গিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, সমস্যা নিয়ে বারবার জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
সিইওর সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে পার্থ ভৌমিক জানান, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আমাদের দাবি শুনেছেন, মান্যতাও দিয়েছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত কী নেবেন জানা নেই। আর এই গোটা সমস্যাগুলো নিয়েই বুধবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে কথা বলে ভোটারদের যাবতীয় সমস্যার কথা জানাবেন।
বস্তুত, হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ-দের (Booth Level Agent) উপস্থিতি না থাকার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানায় তৃণমূল। ক'দিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, হিয়ারিংয়ে তৃণমূলের বিএলএ-রা থাকবেনই। সোমবার এই পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজারাই সেই দাবি সিইও-র সামনে তুলে ধরেন।
শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে এক সঙ্গে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সব রাজ্যের উদাহরণ টেনে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিষেকের প্রশ্ন, অন্যান্য রাজ্যে এসআইআরে বাড়তি সময় দেওয়া হল, পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয় কেন?
অভিষেকের দাবি, গায়ের জোরে করে দু’-তিন মাসের মধ্যে কমিশন এসআইআর করেছে। তার ফলস্বরূপ সাধারণ মানুষ থেকে বিএলও-দের দুর্দশা! অনেকে আত্মহত্যা করেছেন এই সময়কালে, সেই দাবিও করেন অভিষেক।