মাত্র ন’ঘণ্টার মধ্যে এসএসকেএম হাসপাতালের (SSKM Hospital) কার্ডিয়োলজি বিভাগে এক দিনে ২২ জন রোগীর শরীরে সফলভাবে পেসমেকার বসানো হয়।

চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল
শেষ আপডেট: 25 January 2026 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নামটা আলোচনার কেন্দ্রে খুব একটা আসেনি কখনও। প্রচারের আলোয় থাকার চেষ্টাও করেননি। কিন্তু কাজটাই ছিল এমন, যা নীরবে ইতিহাস গড়ে দেয়। সেই চিকিৎসকই এবার পদ্মশ্রী সম্মানে (Padma Award 2026) ভূষিত হলেন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day) প্রাক্কালে ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কারপ্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। যে তালিকায় নাম রয়েছে বিশিষ্ট হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সরোজ মণ্ডলেরও (Doctor Saroj Mondal)।
রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ব্যস্ত, অথচ দায়বদ্ধ কর্মদিবস কীভাবে অসামান্য হয়ে উঠতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। সেদিন মাত্র ন’ঘণ্টার মধ্যে এসএসকেএম হাসপাতালের (SSKM Hospital) কার্ডিয়োলজি বিভাগে এক দিনে ২২ জন রোগীর শরীরে সফলভাবে পেসমেকার বসানো হয়। কোনও রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা ছিল না, ছিল শুধু রোগীর চাপ এবং চিকিৎসার তাগিদ।
সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ চিকিৎসক সরোজ মণ্ডলের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল কাজ শুরু করে। এক জন রোগীর শরীরে পেসমেকার বসানোর কাজ চলার মধ্যেই পরের জনকে অ্যানাস্থেশিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এক মিনিটও যেন নষ্ট না হয়, সেই লক্ষ্যেই। এভাবেই একের পর এক জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ শেষ হয় শেষ অস্ত্রোপচার।
এই ২২টি প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল ১৪টি ডাবল চেম্বার পেসমেকার, দুটি আইসিডি (ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর) এবং বাকিগুলি সিঙ্গল চেম্বার পেসমেকার। দিনের শেষদিকে জরুরি বিভাগ থেকে আরও কয়েকজন রোগী পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৮০ বছর বয়সি এক প্রবীণ, যিনি এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক। তাঁর ক্ষেত্রেও বিলম্বের কোনও সুযোগ ছিল না।
চিকিৎসক সরোজ মণ্ডলের সঙ্গে এই কাজে যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, শিনাথ সিং, আদিত্য ভার্মা ও আর. ভিগনেশ। দলগত সমন্বয় এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমেই সম্ভব হয়েছিল এই বিরল কর্মদিবস।
এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল নিজেই বলেছিলেন, “দেশের অন্যতম ব্যস্ত পেসমেকার ইমপ্ল্যান্টেশন বিভাগ আমাদেরটা। তবে ওই দিনটা সত্যিই সবচেয়ে ব্যস্ত ছিল। কোনও রেকর্ড করার পরিকল্পনা আমাদের ছিল না। রোগীর সংখ্যাই আমাদের সেই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ায় ওই ২২টি পেসমেকারই রোগীদের দেওয়া হয়েছিল বিনা খরচে। বহু দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ এই জীবনদায়ী চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন।
পদ্মশ্রী সম্মান সেই নিরব, নিষ্ঠাবান চিকিৎসকসত্তারই স্বীকৃতি। যাঁরা আলোচনার বাইরে থেকে প্রতিদিন মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজ করে চলেছেন। আর ডক্টর সরোজ মণ্ডল তাঁদেরই প্রতিনিধি হয়ে উঠলেন রবিবাসরীয় বিকেলে।