এ বছরের পদ্মভূষণ সম্মান মরণোত্তর প্রদান করা হচ্ছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (JMM) প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনকে (Shibu Soren) দেশের রাজনৈতিক ও জনজীবনে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই এই সম্মান বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

শিবু সোরেন
শেষ আপডেট: 25 January 2026 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের পদ্ম সম্মানপ্রাপকদের (Padma Award 2026) তালিকা প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) তরফে জানানো হয়েছে, এ বছর মোট ১৩১ জনকে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন পদ্মবিভূষণ (Padma Bibhushan), ১৩ জন পদ্মভূষণ (Padma Bhushan) এবং ১১৩ জন পদ্মশ্রী (Padma Shree) সম্মানপ্রাপক।
এ বছরের পদ্মভূষণ সম্মান মরণোত্তর প্রদান করা হচ্ছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (JMM) প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনকে (Shibu Soren) দেশের রাজনৈতিক ও জনজীবনে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই এই সম্মান বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের আদিবাসী আন্দোলনের ইতিহাসে শিবু সোরেন ছিলেন এক অনিবার্য নাম। ঝাড়খণ্ডের মানুষের কাছে তিনি ‘গুরুজি’ বা ‘দিশম গুরু’— একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একটি আন্দোলনের প্রতীক। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন আজও ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবেই বিবেচিত।
১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি, তৎকালীন বিহারের রামগড় জেলার নেমরা গ্রামে জন্ম শিবু সোরেনের। সাঁওতাল উপজাতিভুক্ত সোরেনের শৈশব থেকেই জীবন ছিল সংগ্রামে ভরা। স্কুলে পড়ার সময়ই মহাজনদের গুন্ডাদের হাতে খুন হন তাঁর বাবা। সেই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে আদিবাসীদের জমি ও অধিকারের প্রশ্নে আন্দোলনে নামেন তিনি। সঙ্গী ছিলেন বাঙালি মার্কসবাদী শ্রমিক নেতা এ কে রায় এবং কুর্মি-মাহাত নেতা বিনোদবিহারী মাহাত।
১৯৭২ সালে তাঁদের হাত ধরেই গড়ে ওঠে নবযুবক সঙ্ঘ, যা পরে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নামে আত্মপ্রকাশ করে। দলের সাধারণ সম্পাদক হন শিবু সোরেন। ‘লাঙল যার, ফসল তার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আদিবাসী, সাঁওতাল ও কুর্মি-মাহাত সম্প্রদায়ের জমি পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। মহাজন ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সালিশি সভা, কখনও নিজস্ব বিচার ব্যবস্থাও চালু করেন, যা তাঁকে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দেয়।
১৯৭৫ সালের ২৩ জানুয়ারি চিরুডিহে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে ২০০৮ সালে তিনি খালাস পান। রাজনৈতিক জীবনে একাধিক ফৌজদারি মামলায় জড়ালেও আদিবাসী সমাজে তাঁর প্রভাব কমেনি।
১৯৮০ সালে প্রথমবার দুমকা লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন শিবু সোরেন। পরে ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০২ এবং ২০০৪ সালেও ওই আসন থেকে জয়ী হন। তিনবার কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের পর ২০০৫, ২০০৮-০৯ এবং ২০০৯-১০—এই তিন দফায় মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, যদিও প্রথম দফা ছিল মাত্র ১০ দিনের।
২০০৬ সালে তাঁর প্রাক্তন একান্ত সচিব শশীনাথ ঝা খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেলেও, পরের বছর দিল্লি হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে তাঁকে খালাস দেয়। এই ঘটনাও ভারতীয় রাজনীতিতে নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি করেছিল।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেএমএমের সর্বময় নেতা ছিলেন শিবু সোরেন। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক এই দলটির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পুত্র হেমন্ত সোরেন।