কোন রাস্তায় কত গাছ? কোন পার্কে কোন প্রজাতির বৃক্ষ? এবার আর আন্দাজে নয়, এক ক্লিকেই জানা যাবে সব তথ্য।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোন রাস্তায় কত গাছ? কোন পার্কে কোন প্রজাতির বৃক্ষ? এবার আর আন্দাজে নয়, এক ক্লিকেই জানা যাবে সব তথ্য। শহরের সবুজকে ডিজিটালি নথিভুক্ত (Tree Database) করতে উদ্যোগী হল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipality)। খুব শীঘ্রই শুরু হচ্ছে কলকাতার প্রথম “ডিজিটাল ট্রি ম্যাপিং” প্রকল্প (Digital identity Card)।
পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের গাছের সমীক্ষা করানোর জন্য টেন্ডার ডাকার প্রস্তুতি চলছে। মাঠপর্যায়ে গাছের সংখ্যা, প্রজাতি, অবস্থান এবং স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তারপর সব তথ্য আপলোড করা হবে পুরসভার নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ও অ্যাপে। ফলে নাগরিকরা মোবাইল বা কম্পিউটার থেকেই দেখতে পারবেন— কোন রাস্তায় কতগুলি গাছ, তাদের বয়স, উচ্চতা, এমনকি কোন গাছ অসুস্থ তাও।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, “নিউ ইয়র্ক সিটির একটি অ্যাপ আমাদের নজরে আসে। সেখানে গোটা শহরের গাছের ম্যাপিং ডিজিটালি দেখা যায়। কলকাতায়ও আমরা ঠিক তেমনই কিছু করতে চাই।”
কলকাতা শহরে কত গাছ আছে, তার নির্দিষ্ট হিসেব নেই পুরসভার কাছে। উদ্যান দফতরের ধারণা, পার্ক ও রাস্তা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ গাছ থাকতে পারে, কিন্তু সেটি সঠিক পরিসংখ্যান নয়। তাই এবার ‘ফিল্ড সার্ভে’ করে গাছের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা নথিভুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে ড্রোন দিয়েও সার্ভে করা হবে বলে পুরকর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন।
উদ্যান বিভাগের মেয়র পরিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, “শহরের সবুজের সার্বিক সমীক্ষা শুরু হয়েছে। নাগরিকরা ডিজিটাল মাধ্যমে শহরের গাছ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন।”
এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘উমপুন’-এর ধাক্কায় শহরের বহু গাছ উপড়ে পড়েছিল। পরে পুরসভা দাবি করে, এক লক্ষেরও বেশি নতুন গাছ বসানো হয়েছে। তবু প্রতি বছরই ঝড়ে-বাদলে বহু গাছ ভেঙে পড়ে। এই অবস্থায় মেয়রের নির্দেশে চলতি বছরে শুরু হয় গাছের স্বাস্থ্য সমীক্ষা। তাতে প্রায় শতাধিক গাছকে ‘অসুস্থ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে— কিছু গাছ কাটতে হবে, কিছু ছাঁটাই করলেই চলবে।
ঠিক সেই সময়ই নিউ ইয়র্কের ডিজিটাল ট্রি-ম্যাপের প্রকল্প পুরসভার নজরে আসে। এবার সেই মডেলেই কলকাতার জন্য তৈরি হচ্ছে শহরের সবুজের ডিজিটাল ডেটাবেস। পুরসভার এক কর্তা বলেন, “লক্ষ্য একটাই, শহরের গাছের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাতে প্রতিটি গাছের হিসেব নাগরিকের হাতের মুঠোয় আসে।”