বৃহস্পতিবার খোদ দলকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, "আমাকে দল থেকে বের করে দেখাক না! মুর্শিদাবাদে আসন সংখ্যা ২০ থেকে ১০ এ নামাব!"

হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: ফের বিদ্রোহী হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের জেলা নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, "আমাকে দল থেকে বের করে দেখাক না! মুর্শিদাবাদে আসন সংখ্যা ২০ থেকে ১০ এ নামাব!"
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এবার দলের বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ আনলেন তিনি। বললেন, "বিজেপি, কংগ্রেস বা সিপিএম নয়, তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শত্রু তৃণমূলই (TMC, Enemy)!" এব্যাপারে অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গও টেনেছেন ভরতপুরের বিধায়ক।
শুক্রবার পুলিশের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে হুমায়ুন সরাসরি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারই জেলা থেকে দলের নেতা তথা বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে (Jibankrishna Saha) ‘ইডি’র মাধ্যমে গ্রেফতার করিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার কাছে সেই নিয়ে “সব তথ্য ও ডকুমেন্ট” আছে এবং সময় হলেই তা প্রকাশ করবেন।
হুমায়ুন বলেন, “বড়ঞার এমএলএ জীবনকৃষ্ণ কোথায়? এখন জেল কাস্টডিতে। তাঁকে কে ফাঁসাল? বিশ্বনাথ সাহা, জীবনকৃষ্ণ সাহার বাবা, তাঁকে কীভাবে কনভিন্স করে জেলা সভাপতি ইডিকে দিয়ে আবার অ্যারেস্ট করিয়েছে, ঠিক সময় মতো যোগ্য জবাব দেব। আমার কাছে সব তথ্য আছে।”
এই প্রসঙ্গেই টেনে এনেছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রতর প্রসঙ্গ। হুমায়ুন বলেন, অনুব্রতবাবুও তো ২ বছর তিহার জেলে ছিলেন, নেত্রী তাঁকে স্বমহিমায় পদ দিয়েছেন। কদিন আগে অনুব্রত বলেছিলেন, বিজেপি, সিপিএম বা কংগ্রেস নয়, তৃণমূলের শত্রু তৃণমূলই। আমিও ঠিক সেই কথায় বলছি, এই জেলাতেও সেই কারবার চলছে।
এ ব্যাপারে জেলার পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বকেও হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক,“রাজ্য এই কাঠিবাজি বন্ধ না করলে আমি সবসময় প্রস্তুত আছি; রাস্তায় যেখানে দেখব সেখানে বিক্ষোভ দেখাব।” কড়া ভাষায় হুমায়ুন সতর্ক করেছেন, বেশি দম্ভ করলে ২০২৬ নির্বাচনে দল হারাবে। নিজে ভরতপুরে জয়ের নম্বরও টেনে এনে জেলা নেতাদের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখার ডাক দিয়েছেন—“আমি ভরতপুরে ৪৩ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলাম; এখন লোকসভার লিড ১৭ হাজারে নেমে এসেছে—এই দায় নেবে জেলা নেতারা।”
হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন যে লোকসভার পর ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এমপি ল্যাড থেকে ভরতপুরের জন্য কানাকড়িও মেলেনি। তিনি সতর্ক স্বরে বলেন, “আমাকে ঢিল মারলে আমি পাথর মারি—এটাই আমার অভ্যাস।”
জেলায় তৃণমূলকে ২০ আসন থেকে ১০ আসনে নামাবেন, বৃহস্পতিবারের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে শুক্রবারও হুমায়ুন বলেছেন, কমিশন যখন প্রার্থীর বিজ্ঞপ্তি জারি করবে, তখন প্রার্থীর পরিচয় দেখে যা বলার বলব।
এ পর্যন্ত অপূর্ব সরকারের বা জেলা নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের তরফেও মেলেনি কোনও প্রতিক্রিয়া। এখন দেখার হুমায়ুনের বিদ্রোহের আগুন আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়?