“১৫–২০ জনকে কিছু চাল আর প্লাস্টিক দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু এখানে ২০০ পরিবার। আমরা কি মানুষ নই?”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) আশ্বাস দিয়েছিলেন, “কেউ ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবেন না”। কিন্তু জলপাইগুড়ির (Dhupguri) মাগুরমারী ২ নম্বর পঞ্চায়েতের দক্ষিণ আলতা গ্রামে সেই আশ্বাস যেন কেবল আশ্বাস হয়েই রয়ে গেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব ছবি সম্পূর্ণ আলাদা। প্লাবিত গ্রাম, তলিয়ে থাকা ঘরবাড়ি, কাদার মধ্যে দিনযাপন আর সেই প্রেক্ষাপটে ক্ষোভে ফেটে পড়ল বন্যা দুর্গত মানুষজন (Distributing Relief)। অভিযোগ, ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে মুখ দেখে!
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে রীতিমতো উত্তেজনার পরিবেশ। রাগে গজ গজ করতে করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, যাঁদের ঘর এখনো কাদার নিচে, তাঁরাই ত্রাণ পাচ্ছেন না! উল্টে, যাঁদের বাড়ির ক্ষতি তুলনায় কম, তাঁদেরই হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে প্লাস্টিক, দু'কেজি চাল আর সামান্য বিচিং পাউডার। অভিযোগের তির সোজা তৃণমূল পঞ্চায়েতের দিকে।
বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারা ও ত্রাণ নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য বাবলু রহমানকে স্থানীয়রা ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, গ্রামে পুলিশ পাঠাতে হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে।
মুস্তায়া বেগম নামে এক দুর্গত বলেন, “না খাবার, না ওষুধ, কিচ্ছু পাইনি। কাকে দিয়েছে বুঝতেই পারছি না।” অপর এক গ্রামবাসীর অভিযোগ, “১৫–২০ জনকে কিছু চাল আর প্লাস্টিক দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু এখানে ২০০ পরিবার। আমরা কি মানুষ নই?”
স্থানীয় সূত্রের খবর, দক্ষিণ আলতা গ্রামের প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে ঢুকে পড়েছে জলঢাকা নদীর জল। অনেকেই বাঁধের উপরেই অস্থায়ী ঘর বানিয়ে কোনও মতে কাটাচ্ছেন দিন। অথচ এখনও পর্যন্ত গ্রামে পা রাখেননি ব্লক প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, "বাঁধ না সারলে আবারও সর্বনাশ হবেই।" এক বাসিন্দার কথায়, “আমরা খুব ভয়ে আছি। বৃষ্টি শুরু হলেই নদীর জল আবার ঢুকবে। ২০০ বিঘার চাষের জমি পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। ফসল তো দূর, মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নেই।”
এদিকে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ত্রাণ বণ্টনেও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে দাবি কর্তাদের।