
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 18 January 2025 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মামলার রায় শুনে নির্যাতিতার বাবা-মা সম্পূর্ণ খুশি হননি। অনেক প্রশ্ন থেকে গেছে বলে দাবি করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররাও। এবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বললেন, এই রায়ে আংশিক বিচার হয়েছে। এখনও অনেকটা পথ যেতে হবে।
সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালত জানিয়েছে, আগামী সোমবার সাজা ঘোষণা করা হবে। এই ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, এই ধরনের ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফাঁসির সাজা হয়। তবে তিনিও সন্দেহ করেন, আরজি করের ঘটনা একা সঞ্জয় রায়ের পক্ষে করা সম্ভব নয়।
শিয়ালদহ আদালত যে রায় দিয়েছে তা শুনে শুভেন্দুর বক্তব্য, ''এটা একটা আংশিক বিচার। শুরুটা ভালই হয়েছে, তবে আরও অনেকটা এগোতে হবে। বিচার সম্পূর্ণ করতে হবে।'' এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ডিএনএ রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক রিপোর্টের কথা তুলে ধরে দাবি করেন, বোঝাই গেছে এই ঘটনা একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। একাধিকজন জড়িত থাকতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধস্তাধস্তির কোনও চিহ্ন নেই। একজন এই কাজ করলে তার চিহ্ন থাকার কথা।
বিজেপি নেতার স্পষ্ট দাবি, একাধিক ব্যক্তি মিলে নির্মম অত্যাচার করে আরজি করের ওই চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করেছেন। তাই শনিবার আদালত যে রায় দিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানিয়ে অমীমাংসিত বিচারের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শুভেন্দু বলেন, এই মামলায় আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে অভিযুক্ত ঘোষণা করা হলে তিনি আরও বেশি খুশি হতেন।
প্রথম থেকেই নির্যাতিতার বাবা-মার দাবি ছিল, এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় দোষী হলেও একমাত্র জড়িত নন। আরও অনেকে রয়েছে। কিন্তু সিবিআই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমনকী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে অখুশিও তাঁরা। শনিবার শিয়ালদহ আদালতের রায় শোনার পর তাঁদের বক্তব্য, অনেক প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। তার উত্তর তাঁরা পাননি। তাই মনে করেন, বিচার এখনও বাকি।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩ এর ৩ উপধারায় সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারায় ধর্ষণ, ৬৬ ধাারায় ধর্ষণের সময় এমন আঘাত করা, যার জেরে মৃত্যু হতে পারে এবং ১০৩ এর ধারায় খুনের মামলা আনা হয়েছে।