মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরপর দু'দিন ধরে চলছে অশান্তি। ভিনরাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু এবং অন্য এক শ্রমিকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় দু’দিন ধরে বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাঙচুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা (Beldanga Protest)।

রাজ্যপালকে চিঠি শুভেন্দুর
শেষ আপডেট: 17 January 2026 21:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরপর দু'দিন ধরে চলছে অশান্তি (Beldanga Incident)। ভিনরাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু এবং অন্য এক শ্রমিকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় দু’দিন ধরে বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাঙচুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা (Beldanga Protest)। এলাকার বহু হিন্দু পরিবারের দোকান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari writes to Governor CV Anand Bose)। সেই চিঠিতেই অশান্ত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন (Central Force) এবং এনআইএ (NIA) তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, 'এই অশান্তি আকস্মিক নয় বরং পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। অতীতে নাগরিকত্ব আইন বা ওয়াকফ আইন সংশোধনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে যেভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, এবারও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।'
I am deeply concerned and outraged by the ongoing communal violence in Beldanga; Murshidabad district, where innocent Hindu families are facing targeted attacks on their homes, shops, and places of worship.
Over the last 48 hours, rioters have unleashed terror, vandalizing… pic.twitter.com/IWeTNyI6mB— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 17, 2026
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাঁদের ভূমিকা ছিল খুবই নিষ্ক্রিয়।' 'পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ না করায় দুষ্কৃতীরা আরও উৎসাহ পায়। রাজনৈতিক স্বার্থেই পুলিশ-প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি', এমনই দাবি শুভেন্দুর।
এরই মধ্যে সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ান এলাকায় আগে থেকেই মোতায়েন থাকা ১৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। এই বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তা কাজে লাগায়নি বলে চিঠিতে জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
উত্তেজনার পরিস্থিতিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার আর্জিও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পুরো জেলার বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা জরুরি।
কেন এই উত্তেজনা
ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুই শুক্রবার বেলডাঙায় উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটায়। মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই সুজাপুর–কুমারপুর এলাকার বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন। দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার আরও এক শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে তেতে ওঠে পরিস্থিতি।
খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পরপর দু'দিনই আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকরা। শুক্রবার জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতিকে মারধরের ঘটনার পর শনিবার আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ ও চিত্রসাংবাদিক।
শনিবার বঙ্গ সফরে এসে বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদহের (Malda) সভা থেকে তিনি বলেন, "বাংলায় (West Bengal) মেয়েদের কোনও সুরক্ষা নেই। আমরা দেখলাম, তৃণমূলের গুণ্ডারা এক মহিলা সাংবাদিককে নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে, মেরেছে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে মা-বোনেদের হেনস্থা করা হচ্ছে এবং অপরাধের গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী (Beldanga Vilolence)।"
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদের এসপি দাবি করেন, আধঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার সাংবাদিক নিগ্রহের (Journalist Harassment) ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।