নতুন ক্যান্সার হাবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—একই ছাতার তলায় অঙ্গভিত্তিক পৃথক আউটডোর। ফুসফুস ক্যানসার, হেড অ্যান্ড নেক, সার্ভাইক্যাল, মাসকিউলোস্কেলিটাল—সব ক্ষেত্রেই থাকছে আলাদা আলাদা ওপিডি।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 November 2025 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী বছর গোড়াতেই খুলে যাচ্ছে পিজির বহু প্রতীক্ষিত ক্যান্সার হাসপাতালের দরজা ('Super' Cancer Hub in PG)। জানুয়ারি ২০২৬-এ আউটডোর ভিত্তিক পরিষেবা শুরু করার লক্ষ্য স্থির করেছে এসএসকেএম (Rs 100 crore project, high-tech treatment set to begin in January)। বছর ঘুরতেই পূর্ণমাত্রায় চালু হবে ইনডোর বা আইপিডি পরিষেবা—এমনটাই জানালেন পিজির ক্যান্সার হাবের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অলোক ঘোষ দস্তিদার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘোষণার পরেই রাজ্যে দু’টি সরকারি ‘হাইটেক’ ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ার কাজ শুরু হয়েছিল। তার প্রথমটি তৈরি হচ্ছে পিজিতে। দ্বিতীয়টি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। টাটা মেমোরিয়াল ক্যানসারের সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে এই অত্যাধুনিক পরিকাঠামো। শীঘ্রই পিজির চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের মুম্বইয়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলেও হাসপাতাল সূত্রে খবর।
পিজি সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই ক্যান্সার হাব ভবনের প্রথম দুটি তলায় আউটডোর ও রেডিয়োথেরাপি পরিষেবা শুরু হবে। বাকি আটটি তলার কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে এই ভবনেই চলে আসবে ইনডোর, ডে কেয়ার এবং কেমোথেরাপির পুরো ইউনিট—যা এখন চলছে কলকাতা পুলিশ হাসপাতালে।
নতুন ক্যান্সার হাবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—একই ছাতার তলায় অঙ্গভিত্তিক পৃথক আউটডোর। ফুসফুস ক্যানসার, হেড অ্যান্ড নেক, সার্ভাইক্যাল, মাসকিউলোস্কেলিটাল—সব ক্ষেত্রেই থাকছে আলাদা আলাদা ওপিডি।
চিকিৎসার জন্য আসছে অত্যাধুনিক লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর (লাইন্যাক), ব্র্যাকিথেরাপি, সিটি সিম্যুলেটর-সহ একাধিক ডিজিটাল যন্ত্র। ইতিমধ্যে সিটি সিম্যুলেটর ও বিদেশ থেকে আনা দুটি লাইন্যাক এবং ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন শহরে পৌঁছেছে। পিজিতে নিয়ে যাওয়া/ শুধু বাকি।
এসএসকেএম হাসপাতালের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, ক্যান্সারের আধুনিক যন্ত্রপাতিতেই রাজ্যের খরচ প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। দুটি লাইন্যাকের দামই সাড়ে ২৬ কোটি করে। সিটি সিম্যুলেটরের দাম প্রায় সওয়া ৬ কোটি, ব্র্যাকিথেরাপির সওয়া ৪ কোটি। সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজ মিলিয়ে আরও ১৮–২০ কোটি খরচ হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের খরচ ছুঁয়ে ফেলবে প্রায় ১০০ কোটি।
চিকিৎসকদের কথায়, লাইন্যাক আক্রান্ত কোশে নিখুঁত রেডিয়েশন পৌঁছে দিতে সক্ষম, ফলে আশপাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। ব্র্যাকিথেরাপিতে রে সরাসরি দেওয়া যায় লক্ষস্থানের ভিতরেই। কোন রোগীর ক্ষেত্রে কী ডোজে রেডিয়েশন দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করবে সিটি সিম্যুলেটর।
ডাঃ দস্তিদারের বক্তব্য, “প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি ইমিউনোথেরাপি ও আরও কিছু আধুনিক থেরাপিও নতুন ক্যানসার হাবে শুরু হবে। দেশের সেরা আধুনিক ক্যান্সার পরিষেবাগুলির একটি হয়ে ওঠাই আমাদের লক্ষ্য।”