ভিড় নয়, ঝকঝকে ভার্চুয়াল সেলফি! সানরাইজ আনল ‘মায়ের সাথে সেলফি’, যেখানে ৫০+ পুজোমণ্ডপে অনলাইনে ভ্রমণ সম্ভব।

মায়ের সঙ্গে সেলফি! ছবি: এআই নির্মিত।
শেষ আপডেট: 16 September 2025 19:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর আবহে এ বছর নতুন মাত্রা যোগ করেছে সানরাইজ। বাঙালির প্রিয় এই ব্র্যান্ড ঘোষণা করেছে এক অভিনব ও হৃদয়গ্রাহী উদ্যোগ, ‘সানরাইজ মায়ের সাথে সেলফি’। প্রযুক্তি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এই বিশেষ প্রচারাভিযান পুজোপ্রেমীদের জন্য এনে দিল এক অনন্য সুযোগ। এখানে উৎসবের উপভোগ হবে ভিড়ের ঠেলাঠেলি, লম্বা লাইন আর ‘No Selfies’ বোর্ড এড়িয়ে, আরও সহজে, সকলকে সঙ্গে নিয়ে।
ব্যাপারটা ঠিক কী?
দুর্গাপুজোয় কলকাতার বড় বড় মণ্ডপে মায়ের সঙ্গে সেলফি তোলা বহু মানুষেরই স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তব ছবিটা একেবারে আলাদা। ভিড়ের চাপ, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, ফটোগ্রাফির কঠোর নিয়ম আর স্বেচ্ছাসেবকদের অনবরত অনুরোধ— “দ্রুত এগিয়ে যান।” যদি কোনওভাবে ছবি তোলা যায়ও, সেটি হয় ঝাপসা, নয় অতিরিক্ত আলোয় ঝলসে যায়, বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার মতো মানসম্মত হয় না। বয়স্ক মানুষ বা শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য তো প্রতিমার কাছেই পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব।
ছবি তোলার চেষ্টা মণ্ডপে ভিড় বাড়িয়ে দেয়। ফলে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও দুরূহ হয়ে ওঠে। এই সমস্যা দূর করতেই SunriseThePuja.App-এর সহযোগিতায় সানরাইজ নিয়ে এল এক অভিনব সমাধান।
এ বছর চালু করা হয়েছে বিশেষ এক কিউআর কোড। স্ক্যান করলেই ব্যবহারকারীরা পৌঁছে যাবেন এক ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল মানচিত্রে, যেখানে থাকবে কলকাতার ৫০টিরও বেশি নামী পুজোমণ্ডপ। সেখান থেকে বেছে নেওয়া যাবে পছন্দের মণ্ডপ, দেখা যাবে ৩৬০ ডিগ্রি ইমার্সিভ ভিউ, আর সঙ্গে তোলা যাবে একেবারে ঝকঝকে ‘সানরাইজ মায়ের সাথে সেলফি’। চাইলে গ্রুপফিও আপলোড করা যাবে। কোনও ভিড় নেই, ঠেলাঠেলি নেই, কোনও মুহূর্ত হাতছাড়া হওয়ারও ভয় নেই।
এই উদ্যোগের ফলে শুধু কলকাতাবাসীই নন, জেলার দূরবর্তী মানুষ, বয়স্ক কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরাও উপভোগ করতে পারবেন দুর্গাপুজোর আনন্দ।
ব্যবহারকারীরা তাঁদের সেলফি বা গ্রুপফি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারবেন, @SunrisePure-কে ট্যাগ করে। অংশগ্রহণকারীরা উৎসবকালীন সময়ে জিতে নিতে পারবেন নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার।
‘প্রতিমার সঙ্গে সেলফি পাওয়া আসলে ভীষণ কঠিন,’ বলছেন ইলিওস এন্টারটেইনমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অর্পণ চ্যাটার্জী। তিনি ও তাঁর টিমই Sunrise The Puja App-এর পিছনে কাজ করছে। তাঁর কথায়, ‘প্রতিমার পিছনে আলো এত বেশি থাকে যে ছবি তুললে হয় নিজের মুখ জ্বলে যায়, নয়তো প্রতিমার।’
অ্যাপটিতে রয়েছে ৪০০-রও বেশি পুজো ইনস্টলেশনের আর্কাইভ, যার অনেকগুলিই আট বছরেরও পুরনো। ফলে ব্যবহারকারীরা ফিরতে পারবেন কলকাতার বহু প্রতীকী পুজোর শিল্পকলার বিবর্তনের পথে। এর মধ্যে আছে কাশী বোস লেন, শিব মন্দির সর্বজনীন, ৯৫ পল্লি যোধপুর পার্ক অ্যাসোসিয়েশন, হাতিবাগান নবীন পল্লি, সল্টলেক একে ব্লক, চেতলা অগ্রণী, ৬৬ পল্লি কালিঘাট, বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, দমদম পার্ক তরুণ দল, দমদম পার্ক তরুণ সংঘ, দমদম পার্ক ভারত চক্র, কেষ্টপুর প্রফুল্লকানন, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, টালা প্রত্যয়, টালা বারোয়ারি, বেহালা ক্লাব, বাদামতলা আষাড় সংঘ-সহ আরও অনেক পুজো।
যে সব পুজো কমিটি Sunrise The Puja App-এর সঙ্গে যুক্ত, তারা নিজেদের কিউআর কোড পেয়েছে। সেটি স্ক্যান করলে দর্শনার্থীরা দেখতে পারবেন সেই নির্দিষ্ট পুজোর অতীত আর্কাইভ। আয়োজকদের জন্য এটি একপ্রকার ঐতিহ্য সংরক্ষণের উপায় হয়ে উঠেছে, আর ভক্তদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে প্রিয় থিম ও শিল্পকলা নতুন করে উপভোগ করার সুযোগ। এমনকি মণ্ডপ থেকে হারিয়ে যাওয়ার বহু বছর পরও।