শেষ পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সোমবার তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আরও চার জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 January 2026 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মধ্যরাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ (Anandapur Fire) এলাকায় একটি ব্র্যান্ডেড মোমো তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Factory Fire) ঘটনায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। প্রায় ৩২ ঘণ্টা কেটে গেলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গোডাউনের ভিতরে আগুন পুরোপুরি নেভানো যায়নি। ধিকিধিকি আগুনের মধ্যেই একের পর এক ঝলসে যাওয়া দেহ ও কঙ্কাল উদ্ধারের খবর সামনে আসছে।
শেষ পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সোমবার তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আরও চার জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে অসমর্থিত সূত্রে দাবি, নিখোঁজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। তাঁদের অনেকেই রাতের পাহারায় ছিলেন বা কারখানার মধ্যেই থাকতেন। নিখোঁজদের খোঁজ না মেলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Basu)। দগ্ধ গোডাউন চত্বরে ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি দমকলের ডিজি-র সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আজই ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। এদিন ঘটনাস্থলে যান বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাও (Ashok Dinda)।
তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে গো-ব্যাক স্লোগান (Go-Back Slogan) শুনতে হয় সুজিত বসুকে। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিজেপির তরফ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়। এদিকে পাল্টা বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকে পাল্টা স্লোগান দেয় তৃণমূল। ফলত, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুজিত বসু জানিয়েছেন, এই ঘটনায় শুধু এফআইআর হবে তাই নয়, ফরেন্সিক থেকে যা যা করণীয় সব হবে। তবে এই জায়গার ফায়ার অডিট হয়েছিল কিনা, সেটা তিনি এখনও বলতে পারছেন না, তবে না হলে কেন হয়নি তা খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোরে নিখোঁজ এক কর্মীর আত্মীয় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “জল দেওয়া ছাড়া দমকল কিছুই করতে পারছে না। আমাদের লোকজনের দেহ হয়তো আমাদেরই খুঁজে বার করতে হবে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পর্যাপ্ত দমকল ইঞ্জিন কাজ করছিল না। সকাল ৬টা নাগাদ যেখানে ১২টি ইঞ্জিন থাকার কথা, সেখানে মাত্র পাঁচটি ইঞ্জিন সক্রিয় ছিল বলে দাবি।
প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ঝলসে যাওয়া দেহ ও কঙ্কালগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফল মিলিয়ে দেহ শনাক্ত করা হবে। তারপরই সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বিভিন্ন দিক থেকে বারবার জল ছিটিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশাল গোডাউন চত্বরে এখনও আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ভিতরে আটকে পড়া কর্মীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে কার্যত আশা ছাড়ছেন অনেকেই।