এই ধারাবাহিক কর্মসূচিতে শহরজুড়ে তৈরি হচ্ছে যানজট, এমনকী বিপদে পড়ছেন স্কুলপড়ুয়া ও অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগীরাও।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 August 2025 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযানের জেরে বারবার থমকে যাচ্ছে হাওড়া শহরের স্বাভাবিক জনজীবন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের এই ধারাবাহিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তৈরি হচ্ছে যানজট, সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বাধা, এমনকী বিপদে পড়ছেন স্কুলপড়ুয়া ও অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগীরাও।
এই পরিস্থিতিতে এবার সরব হলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। হাওড়াবাসীর স্বার্থে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করতে চলেছেন জনস্বার্থ মামলা (PIL)।
সুভাষবাবুর অভিযোগ, ২০১৩ সাল থেকে রাজ্য প্রশাসনিক ভবন ‘নবান্ন’ হাওড়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিবছর একাধিক বার রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠন ‘নবান্ন অভিযান’ কর্মসূচির ডাক দেয়। ফলে হাওড়া ব্রিজ, জিটি রোড, ফরশোর রোড, কোনা এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড ও যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যার ফলে গোটা শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, “হাওড়ায় প্রতিদিন ২৫ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন এবং শহরে ১৫ লক্ষের বেশি মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু নবান্ন অভিযানের দিনগুলিতে তাঁরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মেট্রো, লোকাল ট্রেন বা সড়কপথ - কোনও দিকেই স্বাভাবিক চলাচল থাকে না। এটা নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন।”
জনস্বার্থ মামলার আগে রাজ্য প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন সুভাষ দত্ত। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, হাওড়ার জেলা শাসক এবং পুলিশ কমিশনার - এই পাঁচ প্রশাসনিক কর্তাকে তিনি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলির এই ধরণের অভিযান রুখতে প্রশাসনকে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে পুলিশ মোতায়েন, ব্যারিকেড বসানো, পরিকাঠামো ক্ষতির মেরামতি ইত্যাদি খাতে।
এই খরচ জনগণের করের টাকা থেকে হচ্ছে, অথচ হয়রানির শিকারও হচ্ছেন সাধারণ মানুষই। সুভাষবাবুর দাবি, এই ব্যয়ভার রাজনৈতিক দলগুলিরই বহন করা উচিত, যারা নবান্ন অভিযানের মতো কর্মসূচির আয়োজন করে।
সুভাষবাবু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। কিন্তু তার দোহাই দিয়ে কারও সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকার হরণ করা যায় না। এই পরিস্থিতি চলতে পারে না। তাই আমি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করছি।”
সুভাষ দত্তর বক্তব্য, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এমনিতেই হাওড়াবাসী ভুগছেন। শহরের বহু এলাকা যেমন হাওড়া ময়দান অঞ্চলে রয়েছে অবৈধ টোটো চলাচল, দখলদারি হকার রাজ, অপরিকল্পিত পার্কিং। এছাড়া রাস্তায় গর্ত, জল জমার সমস্যা তো রয়েছেই। ট্রাফিকের নামে অকারণ ব্যারিকেড তৈরি করছে বাড়চতি চাপ।
এর ওপর নবান্ন অভিযানের চাপ নাগরিক দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই প্রথম নয়, এর আগেও হাওড়ার মঙ্গলাহাট বন্ধ হওয়ায় হাট ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় আদালত নবান্ন অভিযানের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এবার পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন।