আন্দোলনকারীদের দাবি, লিখিত পরীক্ষায় বহুজনই ৬০–এর মধ্যে ৬০ কিংবা ৫৯ পেয়েছেন। তবু তাঁদের ইন্টারভিউর ডাক আসেনি। অভিযোগ, অভিজ্ঞতা বোনাস ১০ নম্বর যোগ হওয়ায় নতুন পরীক্ষার্থীদের অনেকেই পিছিয়ে গিয়েছেন। সিস্টেমে স্বচ্ছতা নেই বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
_0.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে এসএসসির নতুন চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অন্যদিকে পুলিশি ধরপাকড়কে ঘিরে সোমবার দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ধর্মতলা চত্বর। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসএলএসটি–২০২৫ পরীক্ষায় বঞ্চনার অভিযোগে এদিন চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখাতে গেলে তাঁদের সরাতে নামে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশ শান্তিপূর্ণ জমায়েত ভাঙতে বলপ্রয়োগ করেছে।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি—বারবার সরতে বলা হলেও আন্দোলনকারীরা নির্দেশ মানেননি, ফলে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছিল। এই টানাপোড়েনই শেষ পর্যন্ত ধস্তাধস্তির রূপ নেয়, কয়েকজনকে টেনে হিঁচড়ে বাসে তোলে পুলিশ। তবে পুলিশি তৎপরতার পরও রাস্তা কামড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নতুন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, হকের চাকরি এভাবে কেড়ে নিতে দেব না।
ওয়াই চ্যানেল লাগোয়া এলাকায় দুপুর থেকেই জমায়েত শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁরা আগে থেকেই পুলিশের কাছে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনও উত্তরই পাননি। তবুও সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা পাওয়ার কথা নয় বলে দাবি তাঁদের।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, “দশ বছর পর পরীক্ষা হল, তবুও ফের বঞ্চনা। যে দশ নম্বর অভিজ্ঞদের দেওয়া হচ্ছে, সেটাই কালো পর্দার মতো—সরকার নিজের দুর্নীতি ঢাকতে যোগ্য নতুনদের অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।”
দুপুর বাড়তেই পুলিশি ব্যুহ ঘিরে ফেলে এলাকা। পথে দাঁড়িয়ে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের সরাতে গেলে প্রথমে বচসা, পরে হাতাহাতি। কয়েকজনকে জোর করে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবুও মিছিলের একাংশ ধর্মতলার মোড়ে স্লোগান তুলতে থাকেন—“হকের চাকরি চাই”, “কালো দশ নম্বর চাই না”—ইত্যাদি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, লিখিত পরীক্ষায় বহুজনই ৬০–এর মধ্যে ৬০ কিংবা ৫৯ পেয়েছেন। তবু তাঁদের ইন্টারভিউর ডাক আসেনি। অভিযোগ, অভিজ্ঞতা বোনাস ১০ নম্বর যোগ হওয়ায় নতুন পরীক্ষার্থীদের অনেকেই পিছিয়ে গিয়েছেন। সিস্টেমে স্বচ্ছতা নেই বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
ইন্টারভিউতে ডাক না পাওয়া পরীক্ষার্থী শিশিরকুমার দাস বলেন, “আমরা আদালতের পথ ধরেছি ঠিকই, কিন্তু রায় আসতে দেরি হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তখন বিচার পেলেও কোনও লাভ থাকবে না। তাই অধিকার বাঁচাতে রাস্তায় আমাদের ভরসা।” তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—“এবার দেখাব, আন্দোলন কীভাবে লড়া হয়। হকের চাকরি কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না।”
তাঁদের তিন দফা দাবি, ১) অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর বাতিল। ২) অবিলম্বে প্রায় ১৩ হাজার অতিরিক্ত শূন্যপদ সৃষ্টি।
৩) নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে সমস্ত প্রার্থীর ওএমআর শিট প্রকাশ।
এর আগেও চাকরিপ্রার্থীরা বিকাশ ভবন অভিযান করে সাত ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর টানা পুলিশি হস্তক্ষেপ ও আটক সত্ত্বেও আন্দোলনের গতি কমেনি। তাঁদের বক্তব্য—উচ্চ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত রাজপথই তাঁদের শেষ সংগ্রামের জায়গা।
রাজ্য সরকারের তরফে এখনো কোনও নতুন প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই জানিয়েছিলেন, শূন্যপদ বৃদ্ধির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আন্দোলনের উত্তাপ বাড়তে থাকায় এখন নজর সকলের—রাজ্য সরকার ও কমিশন কি কোনও সমঝোতার পথ খুঁজবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে?