চিনে আয়োজিত ব্রিকস স্কিলস প্রতিযোগিতা ২০২৫-এ সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অসাধারণ সাফল্য, ভারতকে গর্বিত করল গোটা দল।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 11 November 2025 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের মাটিতে আয়োজিত ব্রিকস স্কিলস প্রতিযোগিতা ২০২৫-এ ভারতীয় তরুণদের সাফল্য নিয়ে উৎসবে মেতেছে সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাদাররা অংশ নিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য— প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক উৎকর্ষতা গড়ে তোলা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যবিজ্ঞান, সাইবার নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন আধুনিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগীরা তাঁদের দক্ষতার প্রদর্শন করেন। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ২৩৭ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মেধার ছাপ রেখে গোটা দেশকে গর্বিত করেছেন।

চিনের বুকে ২ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ডেটা অ্যানালিসিস অ্যান্ড ভিজুয়ালাইজেশন বিভাগে তাঁদের জয়জয়কার। অফলাইন মোডে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন স্নেহা কুন্ডু, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন শিবম মণ্ডল, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র (CSE – AIML বিভাগ)।
অন্যদিকে, অনলাইন মোডেও সাফল্য ছিনিয়ে এনেছেন আরও কয়েকজন প্রতিযোগী। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তুণির অধিকারী ও সায়ক প্রধান—উভয়েই কম্পিউটার সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন অহানা দাশগুপ্ত, তিনিও একই বিভাগের ছাত্রী।

ছাত্রছাত্রীদের এই অসামান্য অর্জনের পেছনে ছিলেন তাঁদের পরামর্শদাতা দুই শিক্ষক— ড. ইন্দ্রনীল সরকার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, এবং ড. সায়নী মণ্ডল, সহকারী অধ্যাপক। তাঁদের নিষ্ঠা ও দিকনির্দেশনার স্বীকৃতিস্বরূপ দু’জনকেই সম্মানিত করা হয়েছে “এক্সেলেন্ট এক্সপার্ট” পুরস্কারে।
এই সাফল্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, ভারতের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন। উদীয়মান প্রযুক্তির দুনিয়ায় ভারতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা এবং নবীন উদ্ভাবনের চর্চাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল এই জয়।

সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এই অর্জন তাঁদের শিক্ষাদর্শের প্রতিফলন—যেখানে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে শুধু পাঠ্যক্রমে নয়, বাস্তব উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক দক্ষতা বিকাশের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
গোটা ভারত আজ গর্বিত তাঁদের এই জয় দেখে। ছাত্রছাত্রীদের এবং তাঁদের শিক্ষকদের আন্তরিক অভিনন্দন—তাঁরা প্রমাণ করেছেন, মন থেকে চেষ্টায় সীমানা বলে কিছু থাকে না।