নতুন ভোটার কারা হচ্ছেন এবং কারা স্থানান্তরিত হচ্ছেন, এই সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন তথ্যও এ দিন কমিশনের কাছে জানতে চায় তৃণমূল।

কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 23 December 2025 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-এর (SIR) নামে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের রাজ্য সিইও-র (CEO West Bengal) সঙ্গে দেখা করল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল (Trinamool)। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও আপত্তি তুলে ধরে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূলের অভিযোগ, নিয়মের ঘনঘন পরিবর্তনে সাধারণ ভোটাররা চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, সাংসদ পার্থ ভৌমিক, বাপী হালদার ও পুলক রায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, সম্প্রতি কমিশন একের পর এক নতুন নিয়ম সামনে আনছে। তাঁর কথায়, এখন বলা হচ্ছে ৮১টি বিধানসভা এলাকায় ‘নলেজ, অ্যাটিটিউড, প্র্যাকটিস’ (KAP) সার্ভে হবে। কিন্তু কী ভিত্তিতে এই ৮১টি বিধানসভা কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে নতুন ভোটার কারা হচ্ছেন এবং কারা স্থানান্তরিত হচ্ছেন, এই সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন তথ্যও এ দিন কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

চন্দ্রিমার অভিযোগ, এতদিন কমিশনের তরফে জানানো হচ্ছিল যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা, মা, ঠাকুমা বা ঠাকুরদার নাম থাকলেই ভোটার পরিচয় প্রমাণের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “কমিশন বারবার এ ভাবে তথ্য চাইছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বিভ্রান্তিকর।”
নথিপত্র নিয়েও কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ শাসকদলের। চন্দ্রিমা জানান, ভোটার পরিচয়ের জন্য ১১টি নথির কথা বলা হচ্ছে। অথচ বিহারের ভোটের সময় সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডকে দ্বাদশ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে বলেই তৃণমূলের অভিযোগ। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার কোনও অধিকার নেই—এই বিষয়টিও কমিশনের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে।
এ দিন হিয়ারিং সেন্টারের অবস্থান নিয়েও আপত্তি তোলে তৃণমূল। অভিযোগ, বহু জায়গায় এমন এলাকায় হিয়ারিং সেন্টার করা হয়েছে, যেখানে পৌঁছতে মানুষকে ৩০-৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মানুষের সুবিধার্থে পুরসভা বা পঞ্চায়েত অফিসে হিয়ারিং সেন্টার করার প্রস্তাবও দেয় শাসকদল।
সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, মানুষের যেন দূরবর্তী জায়গায় যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই হবে। যদি পঞ্চায়েত বা পুরসভা রাজ্যের প্রতিষ্ঠান বলে আপত্তি থাকে, তা হলে ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে এই হিয়ারিং সেন্টার করা যেতে পারে। তবে কোনও ভাবেই মানুষের হয়রানি হওয়া চলবে না—এই বার্তাই কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
পার্থ ভৌমিক আরও জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেন একজন যোগ্য ভোটারের নামও বাদ না যায়, সে বিষয়ে কমিশনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, ভোটাধিকার রক্ষা করা তাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। শাসকদলের দাবি, নির্বাচন কমিশন যদি নিয়ম ও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ না করে, তা হলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়বে। জয়নগর, নৈহাটি-সহ রাজ্যের একাধিক এলাকায় কোথাও জীবিত মানুষকে মৃত ভোটারে পরিণত করা-সহ খসড়া ভোটার তালিকার একাধিক ত্রুটি নিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান পুলক রায়। কমিশনের তরফে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেই তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।